গতকাল, শনিবারের এক স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সুপরিচিত 'বাতিঘর' বইঘরে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেল। তরুণ আবৃত্তিকার মরিয়ম আক্তার এবং সোহানী ইসলাম সমাপ্তি, যারা নিজেদের শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে বাংলা আবৃত্তির জগতে ইতিমধ্যেই নিজেদের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন, তারা সেখানে পরিচিত হলেন নবীন লেখক মাহবুব সরদার সবুজের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ \"আমি বিচ্ছেদকে বলি দুঃখবিলাস\"-এর সঙ্গে।\n\nএটি কেবল একটি বই পরিচিতি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং সাহিত্য ও আবৃত্তির মেলবন্ধনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত বহন করছিল। বাতিঘরের কর্মীরা জানান, এই দুই তরুণীর বইটির প্রতি আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।\n\nতাদের কথায়, \"সাধারণত পাঠকরা বই হাতে নিয়ে পাতা উল্টে দেখেন বা কিছু অংশ পড়ে দেখেন। কিন্তু মরিয়ম ও সমাপ্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।\n\nতারা যেন বইটির প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি পঙক্তি আত্মস্থ করতে চেয়েছিলেন। \" আবৃত্তির প্রতি তাদের যে গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা, তারই এক প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছিল তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে।\n\nতারা কেবল বইটি পড়েই ক্ষান্ত হননি, বরং নিজেদের সুমিষ্ট কণ্ঠে বইটির নির্বাচিত অংশ আবৃত্তি করে রেকর্ডও করেন। এটি যেন লেখক ও পাঠকের মধ্যে, কবিতার শব্দ ও আবৃত্তিকারের সুরের মধ্যে এক অপূর্ব সেতুবন্ধন তৈরি করেছিল।\n\nতাদের এই প্রচেষ্টা বইটির অন্তর্নিহিত আবেগ ও অনুভূতিকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে, যা হয়তো কেবল নীরব পাঠের মাধ্যমে অনুভব করা সম্ভব হতো না। এই উদ্যোগের পেছনের মূল উদ্দেশ্য ছিল, কবিতার গভীরে প্রবেশ করে তার মর্মার্থকে আবৃত্তির মাধ্যমে আরও বেশি শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়া।\n\nমরিয়ম আক্তার এবং সোহানী ইসলাম সমাপ্তি বিশ্বাস করেন, আবৃত্তি কেবল একটি শিল্প মাধ্যম নয়, এটি কবিতার প্রাণ। একটি কবিতা যখন আবৃত্তিকারের কণ্ঠে জীবন্ত হয়ে ওঠে, তখন তার আবেদন অনেক বেশি শক্তিশালী হয়।\n\n\"আমি বিচ্ছেদকে বলি দুঃখবিলাস\" গ্রন্থটি মূলত বিচ্ছেদ, বিরহ এবং সেই বিচ্ছেদকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার এক দার্শনিক প্রচেষ্টা। তরুণ আবৃত্তিকারদ্বয় মনে করেন, এই গ্রন্থের প্রতিটি পঙক্তিতে লুকিয়ে থাকা আবেগ ও গভীরতা আবৃত্তির মাধ্যমে আরও সুচারুভাবে প্রকাশ করা সম্ভব।\n\nতাদের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে যে, তারা কেবল শিল্পের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ নন, বরং বাংলা সাহিত্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তারা এক অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চান। মাহবুব সরদার সবুজের এই প্রথম কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের পর থেকেই পাঠকদের মধ্যে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।\n\nবিশেষ করে, বইটির নামকরণ \"আমি বিচ্ছেদকে বলি দুঃখবিলাস\" এক ভিন্ন চিন্তাধারার ইঙ্গিত দেয়। সাধারণত, বিচ্ছেদকে আমরা দুঃখ, কষ্ট বা বেদনার প্রতিশব্দ হিসেবেই জানি।\n\nকিন্তু লেখক এখানে বিচ্ছেদকে 'দুঃখবিলাস' বলে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চেয়েছেন, যা পাঠককে ভাবনার নতুন খোরাক জোগায়। বইটির বিষয়বস্তু, ভাষার সারল্য এবং গভীরতা অনেককেই আকৃষ্ট করেছে।\n\nলেখক মাহবুব সরদার সবুজের এই কাব্যগ্রন্থটি পাঠকদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ নিয়ে এসেছে। যারা ডিজিটাল মাধ্যমে বই পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাদের জন্য বইটি লেখকের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে ই-বুক হিসেবে উপলব্ধ করা হয়েছে।\n\nএটি নিঃসন্দেহে লেখকের উদারতা এবং বৃহত্তর পাঠকগোষ্ঠীর কাছে তার সাহিত্যকর্ম পৌঁছে দেওয়ার এক মহৎ উদ্যোগ। পাশাপাশি, যারা হাতে নিয়ে বই পড়ার চিরাচরিত আনন্দ উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য প্রিন্ট কপি সংগ্রহেরও ব্যবস্থা রয়েছে।\n\nদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন বই বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম রকমারি থেকে আগ্রহী পাঠকরা সহজেই বইটি সংগ্রহ করতে পারবেন। এই দ্বৈত ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে, পাঠকের পছন্দ যাই হোক না কেন, \"আমি বিচ্ছেদকে বলি দুঃখবিলাস\" তাদের হাতের নাগালেই থাকবে।\n\nএই দুই তরুণ আবৃত্তিকারের উদ্যোগ বাংলা সাহিত্য এবং আবৃত্তি শিল্পের মেলবন্ধনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা মনে করেন, সমসাময়িক সাহিত্যকে আবৃত্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব।\n\nবিশেষ করে বর্তমান ডিজিটাল যুগে, যেখানে তরুণ প্রজন্ম বই পড়ার চেয়ে অডিও-ভিজ্যুয়াল কন্টেন্টে বেশি আগ্রহী, সেখানে আবৃত্তি হতে পারে সাহিত্যকে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক কার্যকর মাধ্যম। মরিয়ম ও সমাপ্তির এই উদ্যোগ কেবল \"আমি বিচ্ছেদকে বলি দুঃখবিলাস\" বইটির প্রচারেই সাহায্য করবে না, বরং নতুন প্রজন্মের পাঠক ও শ্রোতাদের মধ্যে সাহিত্য ও আবৃত্তির প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তুলতেও সহায়ক হবে।\n\nতাদের এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্য ও আবৃত্তি শিল্পের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে। এই ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে সাহিত্যচর্চার আগ্রহ বাড়াতে এবং আবৃত্তিকে একটি জনপ্রিয় শিল্পমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।\n\nএটি কেবল একটি বই পরিচিতি ছিল না, ছিল সাহিত্য ও শিল্পের এক যুগলবন্দী, যা ভবিষ্যতের জন্য এক আশার আলো জ্বেলে গেল।
ঢাকা বাতিঘরে তরুণ আবৃত্তিকারদের বই-পরিচিতি
|
তরুণ আবৃত্তিকার মরিয়ম ও সোহানী ঢাকা বাতিঘরে মাহবুব সরদার সবুজের বই \
লেখক: মাহবুব সরদার সবুজ
সরদার সংবাদ | Sardar Sangbad