মাহবুব সরদার সবুজ | Mahbub Sardar Sabuj

নীরবতা

| জীবনদর্শন

নীরবতা

পর্ব ৩০১ — অসম্পূর্ণ কবিতা আমি একটা কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম, যেটার প্রথম লাইনটা ছিল তোমাকে নিয়ে। কিন্তু তুমি চলে যাওয়ার পর আমি কবিতাটা আর শেষ করতে পারিনি।\n\nকারণ আমি জানি না কবিতার শেষটা কী হবে। তুমি আমার জীবনের একটা অসম্পূর্ণ কবিতা, যেটার কোনো শেষ নেই।\n\nপর্ব ৩০২ — হারানো ঘ্রাণ তোমার গায়ের একটা আলাদা ঘ্রাণ ছিল, যেটা আমি ভিড়ের মাঝেও চিনতে পারতাম। এখন আমি মাঝে মাঝে সেই ঘ্রাণটা খুঁজি।\n\nকিন্তু পাই না। কারণ ঘ্রাণটা শুধু তোমারই ছিল।\n\nআর তুমি এখন আমার ধরাছোঁয়ার বাইরে। পর্ব ৩০৩ — পুরনো টিকিট আমার মানিব্যাগে এখনো একটা পুরনো সিনেমার টিকিট রাখা আছে।\n\nআমরা দুজন মিলে সেই সিনেমাটা দেখেছিলাম। টিকিটটা এখন বিবর্ণ হয়ে গেছে, কিন্তু আমি সেটা ফেলে দিইনি।\n\nকারণ ওই টিকিটটা আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা একসময় একসাথে ছিলাম। পর্ব ৩০৪ — অচেনা হাসি আমি এখন মাঝে মাঝে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাসি।\n\nকিন্তু সেই হাসিটা আমার নিজের কাছেই অচেনা লাগে। কারণ তুমি আমার আসল হাসিটা কেড়ে নিয়েছো।\n\nএখন আমি যে হাসিটা হাসি, সেটা শুধু একটা মুখোশ। পর্ব ৩০৫ — মিথ্যে প্রতিশ্রুতি তুমি আমাকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে।\n\nবলেছিলে, কখনো ছেড়ে যাবে না। কিন্তু তুমি তোমার কথা রাখোনি।\n\nএখন আমি আর কারো প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করি না। কারণ আমি জানি, প্রতিশ্রুতিগুলো শুধু ভাঙার জন্যই তৈরি হয়।\n\nপর্ব ৩০৬ — হারানো বিশ্বাস আমি তোমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে দামি জিনিসটা দিয়েছিলাম, সেটা হলো আমার বিশ্বাস। তুমি সেই বিশ্বাসটার কোনো মূল্য দাওনি।\n\nতুমি সেটাকে সস্তা ভেবে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছো। এখন আমি বুঝতে পেরেছি, যে মানুষটা বিশ্বাসের মূল্য বোঝে না, তাকে বিশ্বাস করাটা আমারই ভুল ছিল।\n\nপর্ব ৩০৭ — ভাঙা কাঁচ আমাদের সম্পর্কটা ছিল একটা কাঁচের মতো। খুব সুন্দর, কিন্তু খুব ভঙ্গুর।\n\nতুমি একটু জোরে আঘাত করেছিলে, আর কাঁচটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল। আমি অনেক চেষ্টা করেছিলাম টুকরোগুলো জোড়া লাগাতে, কিন্তু পারিনি।\n\nকারণ ভাঙা কাঁচ জোড়া লাগালে দাগ থেকেই যায়। পর্ব ৩০৮ — ফেলে আসা দিন কিছু দিন আছে যেগুলো ফেলে আসা যায় না, সেগুলো সবসময় পিছু পিছু আসে।\n\nতোমার সাথে কাটানো কিছু দিন আমার পিছু ছাড়ে না। বিশেষ করে সেই দিনটার কথা, যখন তুমি বলেছিলে আমাকে ছাড়া তোমার চলবে না।\n\nসেই দিনটা আমি বুকে চেপে রেখেছি, কারণ সেটাই ছিল তোমার সবচেয়ে সত্যি কথা। পর্ব ৩০৯ — অপেক্ষার শেষ আমি অনেকদিন তোমার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম।\n\nভেবেছিলাম হয়তো তুমি ফিরে আসবে। কিন্তু তুমি আসোনি।\n\nএখন আমি আর তোমার জন্য অপেক্ষা করি না। আমি বুঝতে পেরেছি, যে মানুষটা চলে যেতে পারে, সে আর কখনো ফিরে আসে না।\n\nপর্ব ৩১০ — একটা সাধারণ রাত তোমার সাথে একটা সাধারণ রাত কাটানো ছিল আমার সবচেয়ে বড় সুখ। কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান নয়, কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নয়।\n\nশুধু তুমি আর আমি, একটা সাধারণ রাত। সেই সাধারণ রাতগুলোর কথা এখন অনেক মনে পড়ে।\n\nকারণ সেই সাধারণতার মাঝেই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় সুখ। পর্ব ৩১১ — না বলা কথার ওজন আমার বুকে অনেক না-বলা কথা জমে আছে।\n\nকথাগুলো তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বলা হয়নি। এখন সেই কথাগুলো আমার বুকের ভেতর পাথরের মতো চেপে বসে আছে।\n\nমাঝে মাঝে মনে হয় কথাগুলো বলে দিলে হালকা লাগতো। কিন্তু তুমি এখন আর শোনার অবস্থানে নেই।\n\nপর্ব ৩১২ — চেনা মানুষের অচেনা রূপ তুমি এখন আমার কাছে একজন চেনা-অচেনা মানুষ। তোমার মুখটা চেনা, কিন্তু তোমার মনটা অচেনা।\n\nতোমার কণ্ঠস্বর চেনা, কিন্তু তোমার কথাগুলো অচেনা। এই চেনা-অচেনার খেলাটা আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে।\n\nএখন আমি আর এই খেলায় অংশ নিতে চাই না। পর্ব ৩১৩ — বিশ্বাসের মূল্য আমি তোমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে দামি জিনিসটা দিয়েছিলাম, সেটা হলো আমার বিশ্বাস।\n\nতুমি সেই বিশ্বাসটার কোনো মূল্য দাওনি। তুমি সেটাকে সস্তা ভেবে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছো।\n\nএখন আমি বুঝতে পেরেছি, যে মানুষটা বিশ্বাসের মূল্য বোঝে না, তাকে বিশ্বাস করাটা আমারই ভুল ছিল। পর্ব ৩১৪ — তোমার ছবির ফ্রেম তোমার একটা ছবি আমার টেবিলে ছিল।\n\nছবিটার ফ্রেমটা একদিন ভেঙে গেছে। আমি ফ্রেমটা সরিয়ে রেখেছি, কিন্তু ছবিটা এখনো টেবিলে আছে।\n\nফ্রেম ছাড়া ছবিটা দেখতে অদ্ভুত লাগে, কিন্তু আমি সরাতে পারছি না। কারণ ছবিটা সরিয়ে দিলে মনে হবে তুমি কখনো ছিলেই না।\n\nপর্ব ৩১৫ — শেষ রাতের তারা শেষ রাতে যখন ঘুম আসে না, আমি জানালার পাশে বসে তারা দেখি। তারাগুলো একা একা আকাশে ভাসে, কোনো সঙ্গী নেই।\n\nআমার মনে হয় আমিও সেই তারার মতো। একা, কিন্তু আলো দিচ্ছি।\n\nহয়তো আমার এই একাকীত্বটাও কারো জীবনে একটু আলো দেয়। পর্ব ৩১৬ — ক্লান্তির ছায়া ক্লান্তিরও একটা ছায়া আছে।\n\nসেটা খুব গাঢ়। তোমার সাথে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে আমি সেই গাঢ় ছায়ায় ঢাকা পড়ে গিয়েছিলাম।\n\nএখন আমি সেই ছায়া থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমার জীবনে এখন অনেক আলো আছে, শুধু সেই ক্লান্তির ছায়াটা নেই।\n\nপর্ব ৩১৭ — তোমার নীরবতা তুমি যখন কথা বলতে বন্ধ করে দিলে, আমি ভেবেছিলাম তুমি হয়তো অভিমান করেছো। কিন্তু পরে বুঝলাম, তোমার নীরবতা আসলে একটা ভাষা ছিল।\n\nযে ভাষায় তুমি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলে যে, তোমার জীবনে আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই। আমি সেই ভাষাটা বুঝতে একটু দেরি করে ফেলেছিলাম।\n\nপর্ব ৩১৮ — জমানো অভিমান আমার বুকে অনেক অভিমান জমে আছে, যেগুলো তোমাকে দেখানো হয়নি। অভিমানগুলো দেখাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি সুযোগ দাওনি।\n\nএখন সেই অভিমানগুলো আমার বুকের ভেতর পাথরের মতো চেপে বসে আছে। মাঝে মাঝে মনে হয় অভিমানগুলো দেখিয়ে দিলে হালকা লাগতো।\n\nকিন্তু তুমি এখন আর দেখার মানুষ নও। পর্ব ৩১৯ — ভোরের পাখি ভোরের পাখির ডাকটা আমার খুব প্রিয়।\n\nসেই ডাকে সব কিছু নতুন মনে হয়। তোমাকে হারানোর পর আমি অনেকদিন ভোরের পাখির ডাক শুনিনি।\n\nকিন্তু এখন আবার শুনি। সেই ডাকে আমি নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাই।\n\nতোমাকে ছাড়া, কিন্তু নিজেকে নিয়ে। পর্ব ৩২০ — কষ্টের রং কষ্টের একটা রং আছে।\n\nসেটা কালো। তুমি আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছো।\n\nসেই কষ্টগুলো আমাকে কালো রঙে রাঙিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু এখন সেই কালো রংটাই আমাকে শক্তিশালী করে তুলেছে। আমি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত, অনেক বেশি সচেতন।\n\nপর্ব ৩২১ — তোমার অপেক্ষায় না থাকা আমি এখন আর তোমার অপেক্ষায় নেই। আগে প্রতিদিন ভাবতাম, হয়তো তুমি ফিরে আসবে।\n\nহয়তো তুমি বুঝতে পারবে। কিন্তু এখন আমি জানি, তুমি আর আসবে না।\n\nআর আমিও আর অপেক্ষা করি না। আমি এখন নিজের জন্য বাঁচি।\n\nপর্ব ৩২২ — নতুন সকাল তোমাকে হারানোর পর আমি নতুন কিছু সকাল দেখেছি। সেই সকালগুলোতে কোনো আশা ছিল না, কোনো স্বপ্ন ছিল না।\n\nকিন্তু এখন আমি বুঝতে পেরেছি, পৃথিবীতে ভালো সকালের অভাব নেই। শুধু সঠিক সকালটাকে খুঁজে নিতে হয়।\n\nপর্ব ৩২৩ — নিজেকে ভালোবাসা তোমাকে হারানোর পর আমি নিজেকে ভালোবাসতে শুরু করেছি। আমি জানতে পেরেছি আমি কী চাই, কী পছন্দ করি, কোথায় যেতে চাই।\n\nতোমার সাথে থাকতে আমি শুধু তোমার পছন্দ-অপছন্দের কথা ভাবতাম। এখন আমি নিজের কথা ভাবি।\n\nএই নিজেকে ভালোবাসার আনন্দটা অন্যরকম। পর্ব ৩২৪ — শেষ চিঠি আমি তোমাকে একটা শেষ চিঠি লিখেছিলাম, যেটা কখনো পাঠানো হয়নি।\n\nচিঠিটাতে লেখা ছিল, \"ভালো থেকো। \" আমি বুঝতে পারিনি তুমি আমাকে ভালো থাকতে বলছিলে নাকি নিজেকে মুক্ত করছিলে।\n\nযাই হোক, আমি সেই চিঠিটা রেখে দিয়েছি, একটা প্রমাণ হিসেবে যে তুমি একসময় ছিলে। পর্ব ৩২৫ — নতুন আমি তোমাকে হারানোর পর আমি একজন নতুন মানুষ হয়ে গেছি।\n\nএই নতুন মানুষটা অনেক বেশি শক্ত, অনেক বেশি সচেতন। এই নতুন মানুষটা আর কাউকে সহজে বিশ্বাস করে না, আর কারো জন্য অপেক্ষা করে না।\n\nএই নতুন মানুষটা শুধু নিজের জন্য বাঁচে। পর্ব ৩২৬ — হারানো সুর আমাদের দুজনের একটা প্রিয় গান ছিল, যেটার সুরটা আমি গুনগুন করে গাইতাম।\n\nতুমি চলে যাওয়ার পর আমি আর সেই সুরটা গাইতে পারি না। গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হয় না।\n\nমনে হয় যেন সুরটাও তোমার সাথে চলে গেছে। আমি এখন শুধু নীরবতা শুনি।\n\nপর্ব ৩২৭ — অদেখা আকাশ তুমি যখন ছিলে, আমরা দুজনে মিলে আকাশের তারা গুনতাম। তুমি চলে যাওয়ার পর আমি আর আকাশের দিকে তাকাই না।\n\nকারণ তারাগুলো আমাকে তোমার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমি এখন শুধু মাটির দিকে তাকিয়ে হাঁটি, কারণ মাটিতে কোনো তারা নেই।\n\nপর্ব ৩২৮ — পুরনো ঘ্রাণ আমার একটা পুরনো পারফিউম ছিল, যেটা তুমি খুব পছন্দ করতে। তুমি চলে যাওয়ার পর আমি আর সেই পারফিউমটা ব্যবহার করিনি।\n\nকারণ পারফিউমের ঘ্রাণটা আমাকে তোমার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমি এখন নতুন পারফিউম ব্যবহার করি, কিন্তু পুরনো ঘ্রাণটা এখনো আমার নাকে লেগে আছে।\n\nপর্ব ৩২৯ — অচেনা স্পর্শ তুমি যখন আমাকে ছুঁতে, তখন আমার মনে হতো আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। তুমি চলে যাওয়ার পর আমি আর কারো স্পর্শ চাইনি।\n\nকারণ অন্য কারো স্পর্শ আমাকে তোমার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমি এখন শুধু নিজের স্পর্শেই বেঁচে আছি।\n\nপর্ব ৩৩০ — মিথ্যে স্বপ্ন আমি অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম, যেগুলোতে তুমি ছিলে। কিন্তু তুমি চলে যাওয়ার পর সেই স্বপ্নগুলো সব মিথ্যে হয়ে গেছে।\n\nএখন আমি আর কোনো স্বপ্ন দেখি না। কারণ আমি জানি, স্বপ্নগুলো শুধু ভাঙার জন্যই তৈরি হয়।\n\nপর্ব ৩৩১ — তোমার দেওয়া কষ্ট তুমি আমাকে যে কষ্টগুলো দিয়েছো, সেগুলো আমি এখনো বহন করছি। কিন্তু এখন আর সেই কষ্টগুলো আমাকে ভাঙে না।\n\nবরং সেগুলো আমাকে শক্তি দেয়। কারণ আমি জানি, যে কষ্টগুলো আমাকে মারতে পারেনি, সেগুলো আমাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।\n\nপর্ব ৩৩২ — ভুলে যাওয়ার চেষ্টা আমি তোমাকে ভুলে যাওয়ার অনেক চেষ্টা করেছি। নতুন জায়গায় গেছি, নতুন মানুষের সাথে কথা বলেছি, নতুন কাজে মনোযোগ দিয়েছি।\n\nকিন্তু তুমি কোথাও না কোথাও থেকে যাও। একটা গান, একটা গন্ধ, একটা রঙ — সব কিছুতেই তোমাকে খুঁজে পাই।\n\nহয়তো ভুলে যাওয়াটা এতো সহজ নয়। পর্ব ৩৩৩ — সন্ধ্যার একাকীত্ব সন্ধ্যাবেলাটা আমার সবচেয়ে কঠিন সময়।\n\nকারণ সন্ধ্যায় তুমি সবসময় আমাকে ফোন করতে। এখন সন্ধ্যা হলে আমার ফোনটা চুপ করে থাকে।\n\nসেই চুপ থাকাটা আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। আমি এখন সন্ধ্যাবেলা বাইরে বেরিয়ে যাই, কারণ ঘরে থাকলে সেই চুপ থাকাটা আরও বেশি কষ্ট দেয়।\n\nপর্ব ৩৩৪ — অভিমানী মন আমার মনটা এখনো তোমার উপর অভিমানী। তুমি যেভাবে চলে গেছো, সেটা আমি মেনে নিতে পারিনি।\n\nকোনো ব্যাখ্যা নেই, কোনো কারণ নেই। শুধু একদিন তুমি চলে গেছো।\n\nআমার মনটা এখনো সেই প্রশ্নটার উত্তর খোঁজে — কেন? পর্ব ৩৩৫ — তোমার কথা মনে হলে তোমার কথা মনে হলে আমি একটা কাজ করি।\n\nআমি চোখ বন্ধ করি, গভীরভাবে শ্বাস নিই, আর নিজেকে বলি — এটা শুধু একটা স্মৃতি। স্মৃতি বাস্তব নয়।\n\nএখন যা আছে, সেটাই বাস্তব। আর বাস্তবে তুমি নেই।\n\nএই কথাটা মনে করিয়ে দিলে একটু হালকা লাগে। পর্ব ৩৩৬ — নতুন পথ তুমি চলে যাওয়ার পর আমি নতুন একটা পথ খুঁজে নিয়েছি।\n\nএই পথটা তোমার সাথে হাঁটা পথের মতো নয়। এই পথে কোনো পরিচিত মুখ নেই, কোনো পরিচিত স্মৃতি নেই।\n\nকিন্তু এই পথটা আমার নিজের। আমি এই পথে একা হাঁটি, কিন্তু স্বাধীনভাবে হাঁটি।\n\nপর্ব ৩৩৭ — শেষ পরিণতি আমাদের সম্পর্কের শেষ পরিণতিটা আমি আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু আমি মেনে নিতে পারিনি।\n\nআমি ভেবেছিলাম হয়তো আমি ভুল। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম না।\n\nশেষটা ঠিক সেভাবেই হয়েছিল, যেভাবে আমি ভয় পেয়েছিলাম। পর্ব ৩৩৮ — ভালো থাকার অর্থ তুমি বলেছিলে, \"ভালো থেকো।\n\n\" কিন্তু তুমি কি জানো, তোমাকে ছাড়া ভালো থাকা কতটা কঠিন? ভালো থাকার অর্থ শুধু হাসি মুখে থাকা নয়।\n\nভালো থাকার অর্থ হলো নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া, নিজের জন্য বাঁচা। আমি সেটাই করছি।\n\nতোমার ছাড়াই। পর্ব ৩৩৯ — শেষ রাতের ভাবনা শেষ রাতে যখন ঘুম আসে না, আমি অনেক কিছু ভাবি।\n\nতোমার কথা ভাবি, আমাদের কথা ভাবি, আমার ভবিষ্যতের কথা ভাবি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভাবি, আমি কি ঠিক করেছিলাম?\n\nহয়তো হ্যাঁ, হয়তো না। কিন্তু এখন আর সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় নেই।\n\nপর্ব ৩৪০ — তোমার অনুপস্থিতির উপহার তুমি চলে যাওয়ার পর আমি কিছু জিনিস পেয়েছি, যেগুলো তুমি থাকলে হয়তো পেতাম না। আমি নিজেকে চিনতে পেরেছি, নিজেকে ভালোবাসতে পেরেছি, নিজের জন্য বাঁচতে পেরেছি।\n\nতোমার অনুপস্থিতিটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। পর্ব ৩৪১ — কৃতজ্ঞতা আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ।\n\nতুমি আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছো, কিন্তু সেই কষ্টগুলো আমাকে শিখিয়েছে। শিখিয়েছে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করতে, নিজেকে ভালোবাসতে, নিজের জন্য বাঁচতে।\n\nতোমার দেওয়া কষ্টগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। পর্ব ৩৪২ — জীবনের পাঠ তুমি আমাকে জীবনের একটা বড় পাঠ দিয়েছো।\n\nশিখিয়েছো, কাউকে নিজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিলে সে তোমাকে কতটা সস্তা ভাবতে পারে। আমি এখন আর কাউকে সেই সুযোগ দিই না।\n\nতোমার দেওয়া এই পাঠটা আমার জীবনের সবচেয়ে দামি শিক্ষা। পর্ব ৩৪৩ — আগামীর স্বপ্ন তোমাকে হারানোর পর আমি নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি।\n\nএই স্বপ্নগুলোতে তুমি নেই, কিন্তু আমি আছি। আমি আছি, আমার স্বপ্ন আছে, আমার ভবিষ্যৎ আছে।\n\nতোমাকে ছাড়াও আমার জীবন আছে। এই সত্যিটা বুঝতে পেরে আমি অনেক হালকা অনুভব করছি।\n\nপর্ব ৩৪৪ — শেষ কথা তোমাকে একটা শেষ কথা বলতে চাই। তুমি আমার জীবনে এসেছিলে, অনেক কিছু দিয়েছিলে, আবার অনেক কিছু নিয়েও গেছো।\n\nকিন্তু তুমি আমাকে একটা জিনিস দিয়ে গেছো, যেটা তুমি নিতে পারোনি। সেটা হলো আমার শক্তি।\n\nতোমার দেওয়া কষ্টগুলো আমাকে শক্তিশালী করে তুলেছে। পর্ব ৩৪৫ — এগিয়ে যাওয়া আমি এখন এগিয়ে যাচ্ছি।\n\nতোমার স্মৃতি বুকে নিয়ে, কিন্তু তোমার অপেক্ষা না করে। আমি জানি সামনের পথটা কঠিন, কিন্তু আমি একা নই।\n\nআমার নিজের শক্তি আছে, আমার নিজের স্বপ্ন আছে। আমি এগিয়ে যাচ্ছি, শুধু নিজের জন্য।\n\nপর্ব ৩৪৬ — নতুন পৃষ্ঠা আমার জীবনের একটা পৃষ্ঠা শেষ হয়েছে। সেই পৃষ্ঠায় তুমি ছিলে, আমরা ছিলাম।\n\nকিন্তু এখন নতুন একটা পৃষ্ঠা শুরু হয়েছে। এই পৃষ্ঠায় শুধু আমি আছি।\n\nআমি জানি না এই পৃষ্ঠায় কী লেখা হবে, কিন্তু আমি জানি এই পৃষ্ঠাটা আমার নিজের। পর্ব ৩৪৭ — রাতের শহর রাতের শহরে একা হাঁটতে হাঁটতে আমি অনেক কিছু ভাবি।\n\nতোমার কথা ভাবি, আমাদের কথা ভাবি। কিন্তু এখন আর সেই ভাবনাগুলো আমাকে কষ্ট দেয় না।\n\nবরং মনে হয়, এই শহরটা আমার। এই রাতটা আমার।\n\nএই একাকীত্বটাও আমার। পর্ব ৩৪৮ — অর্ধেক স্বপ্ন আমি একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম, যেটা অর্ধেক পূরণ হয়েছিল।\n\nবাকি অর্ধেকটা তুমি নিয়ে চলে গেছো। এখন আমি সেই অর্ধেক স্বপ্নটা নিয়ে বাঁচছি।\n\nকিন্তু আমি জানি, একদিন আমি নতুন একটা পূর্ণ স্বপ্ন দেখবো। সেই স্বপ্নে তুমি থাকবে না, কিন্তু আমি থাকবো।\n\nপর্ব ৩৪৯ — তোমার পছন্দের রং তোমার প্রিয় রং ছিল নীল। আমি এখন নীল রং দেখলে একটু থমকে যাই।\n\nমনে হয় তুমি বুঝি কোথাও আছো। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে, তুমি তো আর নেই।\n\nনীল রংটা এখন আমার কাছে একটা মিষ্টি কষ্টের মতো। দেখতে ভালো লাগে, কিন্তু বুকে একটা চাপ দেয়।\n\nপর্ব ৩৫০ — ভুলের হিসাব আমি অনেকবার ভেবেছি, আমার কোথায় ভুল হয়েছিল। কোথায় আমি অন্যভাবে করতে পারতাম।\n\nকিন্তু এখন আমি বুঝতে পেরেছি, ভুলের হিসাব করে কোনো লাভ নেই। যা হয়ে গেছে, তা হয়ে গেছে।\n\nএখন শুধু সামনে তাকানোর সময়। মাহবুব সরদার সবুজ পর্ব ২৫১ — তোমার প্রিয় বই আমার শেলফে এখনো তোমার প্রিয় সেই বইটা রাখা আছে, যেটার পাতা তুমি মুড়িয়ে রেখেছিলে।\n\nতুমি বলেছিলে, \"এখান থেকে আবার পড়বো। \" কিন্তু তুমি আর ফিরে আসোনি।\n\nবইটার সেই পাতাটা এখনো মোড়ানো আছে। আমি কখনো পাতাটা সোজা করিনি, কারণ ওটা তোমার রেখে যাওয়া শেষ চিহ্ন।\n\nপর্ব ২৫২ — নীরব অভিমান তুমি যখন আমাকে প্রথমবার আঘাত করেছিলে, আমি চিৎকার করে কেঁদেছিলাম। কিন্তু তুমি যখন বারবার আঘাত করতে থাকলে, আমি চুপ হয়ে গেলাম।\n\nআমার এই নীরবতাটা তোমার কাছে হয়তো স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। কিন্তু তুমি বুঝতে পারোনি, যে মানুষটা চিৎকার করে কাঁদে, তার চেয়ে যে মানুষটা চুপ করে কাঁদে, তার কষ্ট অনেক বেশি।\n\nপর্ব ২৫৩ — পুরোনো চশমা আমার একটা পুরোনো চশমা ছিল, যেটার ফ্রেমটা একটু বাঁকা হয়ে গিয়েছিল। তুমি প্রায়ই বলতে, চশমাটা বদলে ফেলতে।\n\nআমি বদলাইনি, কারণ ওই চশমা দিয়ে আমি তোমাকে দেখতাম। এখন আমি নতুন চশমা নিয়েছি, কিন্তু তোমাকে আর দেখি না।\n\nপুরোনো চশমাটার সাথে সাথে তোমাকে দেখার অভ্যাসটাও বদলে গেছে। পর্ব ২৫৪ — হারানো রিংটোন তোমার কলের জন্য আমার ফোনে একটা আলাদা রিংটোন সেট করা ছিল।\n\nএখন যখন অন্য কারও ফোনে সেই রিংটোনটা বেজে ওঠে, আমার বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে। এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়, তুমি কল করেছো।\n\nকিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে, তুমি তো আর আমাকে কল করার মানুষ নও। পর্ব ২৫৫ — অবহেলার পাঠ তুমি আমাকে অবহেলা করে একটা বড় পাঠ দিয়েছো।\n\nতুমি আমাকে শিখিয়েছো, কাউকে নিজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিলে সে তোমাকে কতটা সস্তা ভাবতে পারে। আমি এখন আর কাউকে সেই সুযোগ দিই না।\n\nতোমার অবহেলা আমাকে নিজের মূল্য বুঝতে শিখিয়েছে। পর্ব ২৫৬ — পুরোনো রাস্তা যে রাস্তা দিয়ে আমরা রোজ হাঁটতাম, সেই রাস্তাটা এখন অনেক বদলে গেছে।\n\nনতুন দোকানপাট হয়েছে, ল্যাম্পপোস্টগুলো বদলেছে। কিন্তু আমার কাছে রাস্তাটা একই আছে।\n\nআমি এখনো সেই রাস্তা দিয়ে হাঁটি, কিন্তু একা। রাস্তার বদলগুলো আমার চোখে পড়ে না, শুধু তোমার শূন্যতাটা চোখে পড়ে।\n\nপর্ব ২৫৭ — তোমার দেওয়া ঘড়ি তুমি আমাকে যে ঘড়িটা দিয়েছিলে, সেটার ব্যাটারি শেষ হয়ে গেছে অনেকদিন। আমি আর ব্যাটারি বদলাইনি।\n\nকারণ আমি চাই না ঘড়িটা আবার চলুক। ঘড়িটা থেমে আছে, ঠিক যেমন আমাদের সময়টা থেমে গিয়েছিল।\n\nআমি শুধু থেমে থাকা সময়টাকেই মনে রাখতে চাই। পর্ব ২৫৮ — বৃষ্টির শব্দ বৃষ্টির শব্দ আমার খুব প্রিয় ছিল, কারণ বৃষ্টির সময় তুমি আমাকে ফোন করে অনেকক্ষণ কথা বলতে।\n\nএখন বৃষ্টি এলে আমি জানালার পাশে বসে থাকি, কিন্তু ফোনটা আর বাজে না। বৃষ্টির শব্দটা এখন আমার কাছে একটা একঘেয়ে কান্নার মতো মনে হয়।\n\nপর্ব ২৫৯ — তোমার দেওয়া নাম তুমি আমাকে যে নামে ডাকতে, সেই নামটা আমি এখন আর শুনতে পাই না। কেউ আমাকে সেই নামে ডাকে না।\n\nনামটা যেন তোমার সাথেই হারিয়ে গেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় নামটা আমি নিজেই ভুলে গেছি।\n\nহয়তো কিছু নাম শুধু নির্দিষ্ট মানুষের সাথেই মানায়। পর্ব ২৬০ — শূন্যতার পূর্ণতা তুমি চলে যাওয়ার পর আমার জীবনে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।\n\nআমি অনেক চেষ্টা করেছিলাম সেই শূন্যতাটা অন্য কিছু দিয়ে পূরণ করতে। কিন্তু পারিনি।\n\nএখন আমি বুঝতে পেরেছি, শূন্যতাটা পূরণ করার দরকার নেই। শূন্যতাটা নিজেই একটা পূর্ণতা, যেটা আমাকে একা বাঁচতে শিখিয়েছে।\n\nপর্ব ২৬১ — স্মৃতির আয়না মাঝে মাঝে আমি স্মৃতির আয়নার সামনে দাঁড়াই। সেখানে আমি তোমাকে দেখতে পাই, নিজেকে দেখতে পাই।\n\nকিন্তু আমাদের একসাথে দেখতে পাই না। আমরা দুজন আলাদা দাঁড়িয়ে থাকি।\n\nআয়নাটা আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা একসময় ছিলাম, কিন্তু এখন আর নেই। পর্ব ২৬২ — হারানো শহরের গল্প যে শহরে তুমি আর আমি একসাথে হেঁটেছিলাম, সেই শহরটা এখন আমার কাছে একটা হারানো শহর।\n\nরাস্তাগুলো একই আছে, ল্যাম্পপোস্টগুলোও আগের মতোই আলো দেয়, কিন্তু সেই আলোতে আমি আর তোমাকে দেখতে পাই না। শহরটা এখন আমার কাছে শুধু একটা স্মৃতির জাদুঘর।\n\nপর্ব ২৬৩ — নীরবতার ভাষা তুমি যখন কথা বলতে বন্ধ করে দিলে, আমি ভেবেছিলাম তুমি হয়তো অভিমান করেছো। কিন্তু পরে বুঝলাম, তোমার নীরবতা আসলে একটা ভাষা ছিল।\n\nযে ভাষায় তুমি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলে যে, তোমার জীবনে আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই। আমি সেই ভাষাটা বুঝতে একটু দেরি করে ফেলেছিলাম।\n\nপর্ব ২৬৪ — মিথ্যে হাসি আমি এখন অনেক ভালো মিথ্যে হাসতে শিখে গেছি। কেউ যখন জিজ্ঞেস করে, \"কেমন আছো?\n\n\

লেখক:

সরদার সংবাদ | Sardar Sangbad