নীল শাড়িতে চাঁদফুল
গল্প |
— হ্যালো! চাঁদফুল, কেমন আছো?
— হুম, ভালো সরদার সাহেব। তুমি কেমন আছো?
— আলহামদুলিল্লাহ, ভালো! চাঁদফুল, তোমাকে না দেখতে বড্ড ইচ্ছে করছে। তুমি কি আজ বাসা থেকে বের হতে পারবে?
— তুমিতো জানো আজ স্কুল বন্ধ! কী করে বাসা থেকে বের হই, বলতো?
— আমি এত কিছু জানি না চাঁদফুল, আমি তোমাকে দেখতে চাই মানে চাই।
— আচ্ছা বাবা, আমি দেখি কিছু করা যায় কি না।
— উম্মাহ্...! তবে শোনো কিন্তু! তুমি আমার দেওয়া ওই নীল শাড়িটা পরে আসবে। আমি সেই পুরোনো তুমিটাকে নতুন করে আবার দেখতে চাই। আবার হারিয়ে যেতে চাই অতীতের সেই পুরোনো তুমিতে।
— কী বলো! শাড়ি পরে বাসা থেকে বের হওয়া তো সম্ভব নয়। প্লিজ! অন্য কোনোদিন শাড়ি পরব, আজ শুধু দেখা করব। প্লিজ লক্ষ্মী আমার, রাগ কোরো না।
— দেখো, তুমি শাড়ি না পরলে কিন্তু আমি অভিমান করব বলে দিলাম এবং ভীষণ কষ্ট পাব।
— আচ্ছা দেখা যাক, আমি ঠিক দুপুর দুটোর দিকে হিমেল মামার দোকানের পেছনের মাঠে আসব। তুমি আগে থেকে সেখানে অপেক্ষা করবে, কেমন?
— ঠিক আছে! তবে শাড়ি পরতে ভুলে যেয়ো না কিন্তু।
দুপুর ঠিক দুটো বাজে। হিমেল মামার দোকানের পেছনে অপেক্ষা করে আছি। সে এখনো আসেনি, ১০-১৫ মিনিট অতিবাহিত হয়ে গেল। হঠাৎ আমার অপেক্ষার প্রহর ঘুচিয়ে সে আমার কাছে ছুটে এল।
— চাঁদফুল! আসতে কোনো সমস্যা হয়নি তো? তোমাকে না বললাম শাড়ি পরে আসতে? তুমি এটা কী পরে এসেছ? যাও, চলে যাও। তোমার সাথে কোনো কথা নাই।
— আরে আমার পাগল, এত অভিমান কেন? আমি শাড়িই পরেছি! বাসা থেকে শাড়ি পরে বের হলে তো নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে, তাই তো বোরকা পরে আসলাম। আর সবাইকে বললাম, নানা বাড়ি যাব নানুকে দেখতে। সেই বাহানা দিয়েই তো ছুটে আসছি তোমার কাছে। এই ধরো তো, বোরকাটা খুলি! তোমার পাগলীটাকে নীল শাড়িতে দেখে নিজেকে শান্ত করো।
— ওরে আমার লক্ষ্মীটা...!
— আচ্ছা, এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি আমার বোরকাটা খুলতে একটু সাহায্য করবে?
— আচ্ছা, করছি!
— জানো সরদার সাহেব, আমার না ভীষণ ভয় হচ্ছে। যদি কেউ দেখে ফেলে, তাহলে তো সব শেষ!
— আরে বোকা, তোমার এই পাগলটা যতক্ষণ তোমার পাশে আছে, ততক্ষণ তোমার কোনো ভয় পাওয়ার কারণ নেই।
— তোমার ভরসাতেই তো নিজেকে সাজাই তোমার মায়ায়। আচ্ছা, এখন কি দাঁড়িয়েই থাকবে নাকি ওইখানে ঘাসের ওপর বসবে?
— ওহ্, সরি লক্ষ্মী বউটা, আসো ওইখানে বসি।
— হুম, হাতটা তো ধরো, পড়ে যাব তো। তুমিতো জানো শাড়ি পরে হাঁটতে পারি না আমি।
— ওকে, আসো তোমায় কোলে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছি!
— এই এই, কী করছ? তুমি নামাও বলছি, কেউ দেখে ফেলবে তো! প্লিজ নামাও সরদার সাহেব!
— দেখুক না পৃথিবী, আমি আমার ভালোবাসাকে কোলে উঠিয়ে নিয়েছি। যে যাই বলুক, তাতে কী? তুমিতো আমারই।
— প্লিজ সরদার সাহেব নামাও, কেউ দেখলে বড্ড বাজে দেখাবে, প্লিজ।
— আচ্ছা, এবার এখানে বসি! জানো চাঁদফুল, তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতে যেন আমার তাকানোটা শেষ হয় না। মনে হয় যুগের পর যুগ এভাবেই যেন তোমার দিকে তাকিয়ে থাকি।
— আমার তো মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষটা তুমি। রব তোমাকে সমস্ত সৌন্দর্য দিয়ে তৈরি করেছেন। আমার লক্ষ্মী চাঁদফুলকে!
— আচ্ছা, তুমি কি কিছু ভুলে গেছ?
— না তো, কী ভুলব?
— আমার বেলিফুলের মালা কই?
— আরে বাবা, তোমার সাথে দেখা করব, আর এটা আনতে কি আমি ভুলে যেতে পারি? এই বেলিফুল যে আমার লক্ষ্মীটার বড্ড বেশি প্রিয়। এই যে তোমার বেলিফুল।
— কী হলো, মাথায় গেঁথে দেবে না?
— সরি সরি সরি, তোমার দিকে তাকিয়ে যেন আমি হারিয়ে গেছি, এক্ষুনি দিচ্ছি। জানো চাঁদফুল! তোমার এই মায়াবী হাসি, মিষ্টি মিষ্টি খুনসুটি যেন আমাকে নতুন করে বাঁচতে শেখায়। ইচ্ছে করে তোমাকে নিয়ে কোনো অচিন শহরে হারিয়ে যাই, যেখানে তুমি, আমি আর আমাদের একটা নতুন সংসার হবে।
— তাই বুঝি সরদার সাহেব! আমারই তো ইচ্ছে হয় তোমার বুকে মাথা রেখে পুরো একজীবন পার করে দিই দিব্যি।
— উম্মাহ্!
— আচ্ছা সরদার সাহেব, আমি এখন আসি! দেরি হলে আম্মা আবার নানা বাড়ি ফোন দিয়ে ফেলবে, তারা আমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করবে।
— আর একটু থাকো না, এই তো এলে!
— তুমি যখন একবারের জন্য নিজের করে নেবে, তখন তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। এখন প্লিজ বিদায় দাও।
— আচ্ছা! আসো তোমাকে রিকশায় তুলে দিই। তবে শোনো! সাবধানে যাবে, আর বাসায় গিয়ে কিন্তু কল দেবে, কেমন? আর কোনো সমস্যা হলে জানাতে ভুলবে না যেন।
— তুমি কি কিছু ভুলে যাচ্ছ না সরদার সাহেব?
— ওহ্ সরি সরি সরি, উম্মাহ্!
— ওকে উম্মাহ্, আসি আমার রাজকুমার!
— হুম আসো, সাবধানে যাবে... আল্লাহ হাফেজ।
লেখক: মাহবুব সরদার সবুজ