মাহবুব সরদার সবুজ | Mahbub Sardar Sabuj

নীরবতা

জীবনদর্শন |

পর্ব ৩০১ — অসম্পূর্ণ কবিতা আমি একটা কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম, যেটার প্রথম লাইনটা ছিল তোমাকে নিয়ে। কিন্তু তুমি চলে যাওয়ার পর আমি কবিতাটা আর শেষ করতে পারিনি। কারণ আমি জানি না কবিতার শেষটা কী হবে। তুমি আমার জীবনের একটা অসম্পূর্ণ কবিতা, যেটার কোনো শেষ নেই। পর্ব ৩০২ — হারানো ঘ্রাণ তোমার গায়ের একটা আলাদা ঘ্রাণ ছিল, যেটা আমি ভিড়ের মাঝেও চিনতে পারতাম। এখন আমি মাঝে মাঝে সেই ঘ্রাণটা খুঁজি। কিন্তু পাই না। কারণ ঘ্রাণটা শুধু তোমারই ছিল। আর তুমি এখন আমার ধরাছোঁয়ার বাইরে। পর্ব ৩০৩ — পুরনো টিকিট আমার মানিব্যাগে এখনো একটা পুরনো সিনেমার টিকিট রাখা আছে। আমরা দুজন মিলে সেই সিনেমাটা দেখেছিলাম। টিকিটটা এখন বিবর্ণ হয়ে গেছে, কিন্তু আমি সেটা ফেলে দিইনি। কারণ ওই টিকিটটা আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা একসময় একসাথে ছিলাম। পর্ব ৩০৪ — অচেনা হাসি আমি এখন মাঝে মাঝে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাসি। কিন্তু সেই হাসিটা আমার নিজের কাছেই অচেনা লাগে। কারণ তুমি আমার আসল হাসিটা কেড়ে নিয়েছো। এখন আমি যে হাসিটা হাসি, সেটা শুধু একটা মুখোশ। পর্ব ৩০৫ — মিথ্যে প্রতিশ্রুতি তুমি আমাকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে। বলেছিলে, কখনো ছেড়ে যাবে না। কিন্তু তুমি তোমার কথা রাখোনি। এখন আমি আর কারো প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করি না। কারণ আমি জানি, প্রতিশ্রুতিগুলো শুধু ভাঙার জন্যই তৈরি হয়। পর্ব ৩০৬ — হারানো বিশ্বাস আমি তোমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে দামি জিনিসটা দিয়েছিলাম, সেটা হলো আমার বিশ্বাস। তুমি সেই বিশ্বাসটার কোনো মূল্য দাওনি। তুমি সেটাকে সস্তা ভেবে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছো। এখন আমি বুঝতে পেরেছি, যে মানুষটা বিশ্বাসের মূল্য বোঝে না, তাকে বিশ্বাস করাটা আমারই ভুল ছিল। পর্ব ৩০৭ — ভাঙা কাঁচ আমাদের সম্পর্কটা ছিল একটা কাঁচের মতো। খুব সুন্দর, কিন্তু খুব ভঙ্গুর। তুমি একটু জোরে আঘাত করেছিলে, আর কাঁচটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল। আমি অনেক চেষ্টা করেছিলাম টুকরোগুলো জোড়া লাগাতে, কিন্তু পারিনি। কারণ ভাঙা কাঁচ জোড়া লাগালে দাগ থেকেই যায়। পর্ব ৩০৮ — ফেলে আসা দিন কিছু দিন আছে যেগুলো ফেলে আসা যায় না, সেগুলো সবসময় পিছু পিছু আসে। তোমার সাথে কাটানো কিছু দিন আমার পিছু ছাড়ে না। বিশেষ করে সেই দিনটার কথা, যখন তুমি বলেছিলে আমাকে ছাড়া তোমার চলবে না। সেই দিনটা আমি বুকে চেপে রেখেছি, কারণ সেটাই ছিল তোমার সবচেয়ে সত্যি কথা। পর্ব ৩০৯ — অপেক্ষার শেষ আমি অনেকদিন তোমার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো তুমি ফিরে আসবে। কিন্তু তুমি আসোনি। এখন আমি আর তোমার জন্য অপেক্ষা করি না। আমি বুঝতে পেরেছি, যে মানুষটা চলে যেতে পারে, সে আর কখনো ফিরে আসে না। পর্ব ৩১০ — একটা সাধারণ রাত তোমার সাথে একটা সাধারণ রাত কাটানো ছিল আমার সবচেয়ে বড় সুখ। কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান নয়, কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নয়। শুধু তুমি আর আমি, একটা সাধারণ রাত। সেই সাধারণ রাতগুলোর কথা এখন অনেক মনে পড়ে। কারণ সেই সাধারণতার মাঝেই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় সুখ। পর্ব ৩১১ — না বলা কথার ওজন আমার বুকে অনেক না-বলা কথা জমে আছে। কথাগুলো তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বলা হয়নি। এখন সেই কথাগুলো আমার বুকের ভেতর পাথরের মতো চেপে বসে আছে। মাঝে মাঝে মনে হয় কথাগুলো বলে দিলে হালকা লাগতো। কিন্তু তুমি এখন আর শোনার অবস্থানে নেই। পর্ব ৩১২ — চেনা মানুষের অচেনা রূপ তুমি এখন আমার কাছে একজন চেনা-অচেনা মানুষ। তোমার মুখটা চেনা, কিন্তু তোমার মনটা অচেনা। তোমার কণ্ঠস্বর চেনা, কিন্তু তোমার কথাগুলো অচেনা। এই চেনা-অচেনার খেলাটা আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। এখন আমি আর এই খেলায় অংশ নিতে চাই না। পর্ব ৩১৩ — বিশ্বাসের মূল্য আমি তোমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে দামি জিনিসটা দিয়েছিলাম, সেটা হলো আমার বিশ্বাস। তুমি সেই বিশ্বাসটার কোনো মূল্য দাওনি। তুমি সেটাকে সস্তা ভেবে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছো। এখন আমি বুঝতে পেরেছি, যে মানুষটা বিশ্বাসের মূল্য বোঝে না, তাকে বিশ্বাস করাটা আমারই ভুল ছিল। পর্ব ৩১৪ — তোমার ছবির ফ্রেম তোমার একটা ছবি আমার টেবিলে ছিল। ছবিটার ফ্রেমটা একদিন ভেঙে গেছে। আমি ফ্রেমটা সরিয়ে রেখেছি, কিন্তু ছবিটা এখনো টেবিলে আছে। ফ্রেম ছাড়া ছবিটা দেখতে অদ্ভুত লাগে, কিন্তু আমি সরাতে পারছি না। কারণ ছবিটা সরিয়ে দিলে মনে হবে তুমি কখনো ছিলেই না। পর্ব ৩১৫ — শেষ রাতের তারা শেষ রাতে যখন ঘুম আসে না, আমি জানালার পাশে বসে তারা দেখি। তারাগুলো একা একা আকাশে ভাসে, কোনো সঙ্গী নেই। আমার মনে হয় আমিও সেই তারার মতো। একা, কিন্তু আলো দিচ্ছি। হয়তো আমার এই একাকীত্বটাও কারো জীবনে একটু আলো দেয়। পর্ব ৩১৬ — ক্লান্তির ছায়া ক্লান্তিরও একটা ছায়া আছে। সেটা খুব গাঢ়। তোমার সাথে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে আমি সেই গাঢ় ছায়ায় ঢাকা পড়ে গিয়েছিলাম। এখন আমি সেই ছায়া থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমার জীবনে এখন অনেক আলো আছে, শুধু সেই ক্লান্তির ছায়াটা নেই। পর্ব ৩১৭ — তোমার নীরবতা তুমি যখন কথা বলতে বন্ধ করে দিলে, আমি ভেবেছিলাম তুমি হয়তো অভিমান করেছো। কিন্তু পরে বুঝলাম, তোমার নীরবতা আসলে একটা ভাষা ছিল। যে ভাষায় তুমি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলে যে, তোমার জীবনে আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই। আমি সেই ভাষাটা বুঝতে একটু দেরি করে ফেলেছিলাম। পর্ব ৩১৮ — জমানো অভিমান আমার বুকে অনেক অভিমান জমে আছে, যেগুলো তোমাকে দেখানো হয়নি। অভিমানগুলো দেখাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি সুযোগ দাওনি। এখন সেই অভিমানগুলো আমার বুকের ভেতর পাথরের মতো চেপে বসে আছে। মাঝে মাঝে মনে হয় অভিমানগুলো দেখিয়ে দিলে হালকা লাগতো। কিন্তু তুমি এখন আর দেখার মানুষ নও। পর্ব ৩১৯ — ভোরের পাখি ভোরের পাখির ডাকটা আমার খুব প্রিয়। সেই ডাকে সব কিছু নতুন মনে হয়। তোমাকে হারানোর পর আমি অনেকদিন ভোরের পাখির ডাক শুনিনি। কিন্তু এখন আবার শুনি। সেই ডাকে আমি নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাই। তোমাকে ছাড়া, কিন্তু নিজেকে নিয়ে। পর্ব ৩২০ — কষ্টের রং কষ্টের একটা রং আছে। সেটা কালো। তুমি আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছো। সেই কষ্টগুলো আমাকে কালো রঙে রাঙিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু এখন সেই কালো রংটাই আমাকে শক্তিশালী করে তুলেছে। আমি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত, অনেক বেশি সচেতন। পর্ব ৩২১ — তোমার অপেক্ষায় না থাকা আমি এখন আর তোমার অপেক্ষায় নেই। আগে প্রতিদিন ভাবতাম, হয়তো তুমি ফিরে আসবে। হয়তো তুমি বুঝতে পারবে। কিন্তু এখন আমি জানি, তুমি আর আসবে না। আর আমিও আর অপেক্ষা করি না। আমি এখন নিজের জন্য বাঁচি। পর্ব ৩২২ — নতুন সকাল তোমাকে হারানোর পর আমি নতুন কিছু সকাল দেখেছি। সেই সকালগুলোতে কোনো আশা ছিল না, কোনো স্বপ্ন ছিল না। কিন্তু এখন আমি বুঝতে পেরেছি, পৃথিবীতে ভালো সকালের অভাব নেই। শুধু সঠিক সকালটাকে খুঁজে নিতে হয়। পর্ব ৩২৩ — নিজেকে ভালোবাসা তোমাকে হারানোর পর আমি নিজেকে ভালোবাসতে শুরু করেছি। আমি জানতে পেরেছি আমি কী চাই, কী পছন্দ করি, কোথায় যেতে চাই। তোমার সাথে থাকতে আমি শুধু তোমার পছন্দ-অপছন্দের কথা ভাবতাম। এখন আমি নিজের কথা ভাবি। এই নিজেকে ভালোবাসার আনন্দটা অন্যরকম। পর্ব ৩২৪ — শেষ চিঠি আমি তোমাকে একটা শেষ চিঠি লিখেছিলাম, যেটা কখনো পাঠানো হয়নি। চিঠিটাতে লেখা ছিল, "ভালো থেকো। " আমি বুঝতে পারিনি তুমি আমাকে ভালো থাকতে বলছিলে নাকি নিজেকে মুক্ত করছিলে। যাই হোক, আমি সেই চিঠিটা রেখে দিয়েছি, একটা প্রমাণ হিসেবে যে তুমি একসময় ছিলে। পর্ব ৩২৫ — নতুন আমি তোমাকে হারানোর পর আমি একজন নতুন মানুষ হয়ে গেছি। এই নতুন মানুষটা অনেক বেশি শক্ত, অনেক বেশি সচেতন। এই নতুন মানুষটা আর কাউকে সহজে বিশ্বাস করে না, আর কারো জন্য অপেক্ষা করে না। এই নতুন মানুষটা শুধু নিজের জন্য বাঁচে। পর্ব ৩২৬ — হারানো সুর আমাদের দুজনের একটা প্রিয় গান ছিল, যেটার সুরটা আমি গুনগুন করে গাইতাম। তুমি চলে যাওয়ার পর আমি আর সেই সুরটা গাইতে পারি না। গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হয় না। মনে হয় যেন সুরটাও তোমার সাথে চলে গেছে। আমি এখন শুধু নীরবতা শুনি। পর্ব ৩২৭ — অদেখা আকাশ তুমি যখন ছিলে, আমরা দুজনে মিলে আকাশের তারা গুনতাম। তুমি চলে যাওয়ার পর আমি আর আকাশের দিকে তাকাই না। কারণ তারাগুলো আমাকে তোমার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমি এখন শুধু মাটির দিকে তাকিয়ে হাঁটি, কারণ মাটিতে কোনো তারা নেই। পর্ব ৩২৮ — পুরনো ঘ্রাণ আমার একটা পুরনো পারফিউম ছিল, যেটা তুমি খুব পছন্দ করতে। তুমি চলে যাওয়ার পর আমি আর সেই পারফিউমটা ব্যবহার করিনি। কারণ পারফিউমের ঘ্রাণটা আমাকে তোমার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমি এখন নতুন পারফিউম ব্যবহার করি, কিন্তু পুরনো ঘ্রাণটা এখনো আমার নাকে লেগে আছে। পর্ব ৩২৯ — অচেনা স্পর্শ তুমি যখন আমাকে ছুঁতে, তখন আমার মনে হতো আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। তুমি চলে যাওয়ার পর আমি আর কারো স্পর্শ চাইনি। কারণ অন্য কারো স্পর্শ আমাকে তোমার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমি এখন শুধু নিজের স্পর্শেই বেঁচে আছি। পর্ব ৩৩০ — মিথ্যে স্বপ্ন আমি অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম, যেগুলোতে তুমি ছিলে। কিন্তু তুমি চলে যাওয়ার পর সেই স্বপ্নগুলো সব মিথ্যে হয়ে গেছে। এখন আমি আর কোনো স্বপ্ন দেখি না। কারণ আমি জানি, স্বপ্নগুলো শুধু ভাঙার জন্যই তৈরি হয়। পর্ব ৩৩১ — তোমার দেওয়া কষ্ট তুমি আমাকে যে কষ্টগুলো দিয়েছো, সেগুলো আমি এখনো বহন করছি। কিন্তু এখন আর সেই কষ্টগুলো আমাকে ভাঙে না। বরং সেগুলো আমাকে শক্তি দেয়। কারণ আমি জানি, যে কষ্টগুলো আমাকে মারতে পারেনি, সেগুলো আমাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। পর্ব ৩৩২ — ভুলে যাওয়ার চেষ্টা আমি তোমাকে ভুলে যাওয়ার অনেক চেষ্টা করেছি। নতুন জায়গায় গেছি, নতুন মানুষের সাথে কথা বলেছি, নতুন কাজে মনোযোগ দিয়েছি। কিন্তু তুমি কোথাও না কোথাও থেকে যাও। একটা গান, একটা গন্ধ, একটা রঙ — সব কিছুতেই তোমাকে খুঁজে পাই। হয়তো ভুলে যাওয়াটা এতো সহজ নয়। পর্ব ৩৩৩ — সন্ধ্যার একাকীত্ব সন্ধ্যাবেলাটা আমার সবচেয়ে কঠিন সময়। কারণ সন্ধ্যায় তুমি সবসময় আমাকে ফোন করতে। এখন সন্ধ্যা হলে আমার ফোনটা চুপ করে থাকে। সেই চুপ থাকাটা আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। আমি এখন সন্ধ্যাবেলা বাইরে বেরিয়ে যাই, কারণ ঘরে থাকলে সেই চুপ থাকাটা আরও বেশি কষ্ট দেয়। পর্ব ৩৩৪ — অভিমানী মন আমার মনটা এখনো তোমার উপর অভিমানী। তুমি যেভাবে চলে গেছো, সেটা আমি মেনে নিতে পারিনি। কোনো ব্যাখ্যা নেই, কোনো কারণ নেই। শুধু একদিন তুমি চলে গেছো। আমার মনটা এখনো সেই প্রশ্নটার উত্তর খোঁজে — কেন? পর্ব ৩৩৫ — তোমার কথা মনে হলে তোমার কথা মনে হলে আমি একটা কাজ করি। আমি চোখ বন্ধ করি, গভীরভাবে শ্বাস নিই, আর নিজেকে বলি — এটা শুধু একটা স্মৃতি। স্মৃতি বাস্তব নয়। এখন যা আছে, সেটাই বাস্তব। আর বাস্তবে তুমি নেই। এই কথাটা মনে করিয়ে দিলে একটু হালকা লাগে। পর্ব ৩৩৬ — নতুন পথ তুমি চলে যাওয়ার পর আমি নতুন একটা পথ খুঁজে নিয়েছি। এই পথটা তোমার সাথে হাঁটা পথের মতো নয়। এই পথে কোনো পরিচিত মুখ নেই, কোনো পরিচিত স্মৃতি নেই। কিন্তু এই পথটা আমার নিজের। আমি এই পথে একা হাঁটি, কিন্তু স্বাধীনভাবে হাঁটি। পর্ব ৩৩৭ — শেষ পরিণতি আমাদের সম্পর্কের শেষ পরিণতিটা আমি আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু আমি মেনে নিতে পারিনি। আমি ভেবেছিলাম হয়তো আমি ভুল। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম না। শেষটা ঠিক সেভাবেই হয়েছিল, যেভাবে আমি ভয় পেয়েছিলাম। পর্ব ৩৩৮ — ভালো থাকার অর্থ তুমি বলেছিলে, "ভালো থেকো। " কিন্তু তুমি কি জানো, তোমাকে ছাড়া ভালো থাকা কতটা কঠিন? ভালো থাকার অর্থ শুধু হাসি মুখে থাকা নয়। ভালো থাকার অর্থ হলো নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া, নিজের জন্য বাঁচা। আমি সেটাই করছি। তোমার ছাড়াই। পর্ব ৩৩৯ — শেষ রাতের ভাবনা শেষ রাতে যখন ঘুম আসে না, আমি অনেক কিছু ভাবি। তোমার কথা ভাবি, আমাদের কথা ভাবি, আমার ভবিষ্যতের কথা ভাবি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভাবি, আমি কি ঠিক করেছিলাম? হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না। কিন্তু এখন আর সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় নেই। পর্ব ৩৪০ — তোমার অনুপস্থিতির উপহার তুমি চলে যাওয়ার পর আমি কিছু জিনিস পেয়েছি, যেগুলো তুমি থাকলে হয়তো পেতাম না। আমি নিজেকে চিনতে পেরেছি, নিজেকে ভালোবাসতে পেরেছি, নিজের জন্য বাঁচতে পেরেছি। তোমার অনুপস্থিতিটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। পর্ব ৩৪১ — কৃতজ্ঞতা আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। তুমি আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছো, কিন্তু সেই কষ্টগুলো আমাকে শিখিয়েছে। শিখিয়েছে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করতে, নিজেকে ভালোবাসতে, নিজের জন্য বাঁচতে। তোমার দেওয়া কষ্টগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। পর্ব ৩৪২ — জীবনের পাঠ তুমি আমাকে জীবনের একটা বড় পাঠ দিয়েছো। শিখিয়েছো, কাউকে নিজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিলে সে তোমাকে কতটা সস্তা ভাবতে পারে। আমি এখন আর কাউকে সেই সুযোগ দিই না। তোমার দেওয়া এই পাঠটা আমার জীবনের সবচেয়ে দামি শিক্ষা। পর্ব ৩৪৩ — আগামীর স্বপ্ন তোমাকে হারানোর পর আমি নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। এই স্বপ্নগুলোতে তুমি নেই, কিন্তু আমি আছি। আমি আছি, আমার স্বপ্ন আছে, আমার ভবিষ্যৎ আছে। তোমাকে ছাড়াও আমার জীবন আছে। এই সত্যিটা বুঝতে পেরে আমি অনেক হালকা অনুভব করছি। পর্ব ৩৪৪ — শেষ কথা তোমাকে একটা শেষ কথা বলতে চাই। তুমি আমার জীবনে এসেছিলে, অনেক কিছু দিয়েছিলে, আবার অনেক কিছু নিয়েও গেছো। কিন্তু তুমি আমাকে একটা জিনিস দিয়ে গেছো, যেটা তুমি নিতে পারোনি। সেটা হলো আমার শক্তি। তোমার দেওয়া কষ্টগুলো আমাকে শক্তিশালী করে তুলেছে। পর্ব ৩৪৫ — এগিয়ে যাওয়া আমি এখন এগিয়ে যাচ্ছি। তোমার স্মৃতি বুকে নিয়ে, কিন্তু তোমার অপেক্ষা না করে। আমি জানি সামনের পথটা কঠিন, কিন্তু আমি একা নই। আমার নিজের শক্তি আছে, আমার নিজের স্বপ্ন আছে। আমি এগিয়ে যাচ্ছি, শুধু নিজের জন্য। পর্ব ৩৪৬ — নতুন পৃষ্ঠা আমার জীবনের একটা পৃষ্ঠা শেষ হয়েছে। সেই পৃষ্ঠায় তুমি ছিলে, আমরা ছিলাম। কিন্তু এখন নতুন একটা পৃষ্ঠা শুরু হয়েছে। এই পৃষ্ঠায় শুধু আমি আছি। আমি জানি না এই পৃষ্ঠায় কী লেখা হবে, কিন্তু আমি জানি এই পৃষ্ঠাটা আমার নিজের। পর্ব ৩৪৭ — রাতের শহর রাতের শহরে একা হাঁটতে হাঁটতে আমি অনেক কিছু ভাবি। তোমার কথা ভাবি, আমাদের কথা ভাবি। কিন্তু এখন আর সেই ভাবনাগুলো আমাকে কষ্ট দেয় না। বরং মনে হয়, এই শহরটা আমার। এই রাতটা আমার। এই একাকীত্বটাও আমার। পর্ব ৩৪৮ — অর্ধেক স্বপ্ন আমি একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম, যেটা অর্ধেক পূরণ হয়েছিল। বাকি অর্ধেকটা তুমি নিয়ে চলে গেছো। এখন আমি সেই অর্ধেক স্বপ্নটা নিয়ে বাঁচছি। কিন্তু আমি জানি, একদিন আমি নতুন একটা পূর্ণ স্বপ্ন দেখবো। সেই স্বপ্নে তুমি থাকবে না, কিন্তু আমি থাকবো। পর্ব ৩৪৯ — তোমার পছন্দের রং তোমার প্রিয় রং ছিল নীল। আমি এখন নীল রং দেখলে একটু থমকে যাই। মনে হয় তুমি বুঝি কোথাও আছো। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে, তুমি তো আর নেই। নীল রংটা এখন আমার কাছে একটা মিষ্টি কষ্টের মতো। দেখতে ভালো লাগে, কিন্তু বুকে একটা চাপ দেয়। পর্ব ৩৫০ — ভুলের হিসাব আমি অনেকবার ভেবেছি, আমার কোথায় ভুল হয়েছিল। কোথায় আমি অন্যভাবে করতে পারতাম। কিন্তু এখন আমি বুঝতে পেরেছি, ভুলের হিসাব করে কোনো লাভ নেই। যা হয়ে গেছে, তা হয়ে গেছে। এখন শুধু সামনে তাকানোর সময়। মাহবুব সরদার সবুজ পর্ব ২৫১ — তোমার প্রিয় বই আমার শেলফে এখনো তোমার প্রিয় সেই বইটা রাখা আছে, যেটার পাতা তুমি মুড়িয়ে রেখেছিলে। তুমি বলেছিলে, "এখান থেকে আবার পড়বো। " কিন্তু তুমি আর ফিরে আসোনি। বইটার সেই পাতাটা এখনো মোড়ানো আছে। আমি কখনো পাতাটা সোজা করিনি, কারণ ওটা তোমার রেখে যাওয়া শেষ চিহ্ন। পর্ব ২৫২ — নীরব অভিমান তুমি যখন আমাকে প্রথমবার আঘাত করেছিলে, আমি চিৎকার করে কেঁদেছিলাম। কিন্তু তুমি যখন বারবার আঘাত করতে থাকলে, আমি চুপ হয়ে গেলাম। আমার এই নীরবতাটা তোমার কাছে হয়তো স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। কিন্তু তুমি বুঝতে পারোনি, যে মানুষটা চিৎকার করে কাঁদে, তার চেয়ে যে মানুষটা চুপ করে কাঁদে, তার কষ্ট অনেক বেশি। পর্ব ২৫৩ — পুরোনো চশমা আমার একটা পুরোনো চশমা ছিল, যেটার ফ্রেমটা একটু বাঁকা হয়ে গিয়েছিল। তুমি প্রায়ই বলতে, চশমাটা বদলে ফেলতে। আমি বদলাইনি, কারণ ওই চশমা দিয়ে আমি তোমাকে দেখতাম। এখন আমি নতুন চশমা নিয়েছি, কিন্তু তোমাকে আর দেখি না। পুরোনো চশমাটার সাথে সাথে তোমাকে দেখার অভ্যাসটাও বদলে গেছে। পর্ব ২৫৪ — হারানো রিংটোন তোমার কলের জন্য আমার ফোনে একটা আলাদা রিংটোন সেট করা ছিল। এখন যখন অন্য কারও ফোনে সেই রিংটোনটা বেজে ওঠে, আমার বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে। এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়, তুমি কল করেছো। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে, তুমি তো আর আমাকে কল করার মানুষ নও। পর্ব ২৫৫ — অবহেলার পাঠ তুমি আমাকে অবহেলা করে একটা বড় পাঠ দিয়েছো। তুমি আমাকে শিখিয়েছো, কাউকে নিজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিলে সে তোমাকে কতটা সস্তা ভাবতে পারে। আমি এখন আর কাউকে সেই সুযোগ দিই না। তোমার অবহেলা আমাকে নিজের মূল্য বুঝতে শিখিয়েছে। পর্ব ২৫৬ — পুরোনো রাস্তা যে রাস্তা দিয়ে আমরা রোজ হাঁটতাম, সেই রাস্তাটা এখন অনেক বদলে গেছে। নতুন দোকানপাট হয়েছে, ল্যাম্পপোস্টগুলো বদলেছে। কিন্তু আমার কাছে রাস্তাটা একই আছে। আমি এখনো সেই রাস্তা দিয়ে হাঁটি, কিন্তু একা। রাস্তার বদলগুলো আমার চোখে পড়ে না, শুধু তোমার শূন্যতাটা চোখে পড়ে। পর্ব ২৫৭ — তোমার দেওয়া ঘড়ি তুমি আমাকে যে ঘড়িটা দিয়েছিলে, সেটার ব্যাটারি শেষ হয়ে গেছে অনেকদিন। আমি আর ব্যাটারি বদলাইনি। কারণ আমি চাই না ঘড়িটা আবার চলুক। ঘড়িটা থেমে আছে, ঠিক যেমন আমাদের সময়টা থেমে গিয়েছিল। আমি শুধু থেমে থাকা সময়টাকেই মনে রাখতে চাই। পর্ব ২৫৮ — বৃষ্টির শব্দ বৃষ্টির শব্দ আমার খুব প্রিয় ছিল, কারণ বৃষ্টির সময় তুমি আমাকে ফোন করে অনেকক্ষণ কথা বলতে। এখন বৃষ্টি এলে আমি জানালার পাশে বসে থাকি, কিন্তু ফোনটা আর বাজে না। বৃষ্টির শব্দটা এখন আমার কাছে একটা একঘেয়ে কান্নার মতো মনে হয়। পর্ব ২৫৯ — তোমার দেওয়া নাম তুমি আমাকে যে নামে ডাকতে, সেই নামটা আমি এখন আর শুনতে পাই না। কেউ আমাকে সেই নামে ডাকে না। নামটা যেন তোমার সাথেই হারিয়ে গেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় নামটা আমি নিজেই ভুলে গেছি। হয়তো কিছু নাম শুধু নির্দিষ্ট মানুষের সাথেই মানায়। পর্ব ২৬০ — শূন্যতার পূর্ণতা তুমি চলে যাওয়ার পর আমার জীবনে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। আমি অনেক চেষ্টা করেছিলাম সেই শূন্যতাটা অন্য কিছু দিয়ে পূরণ করতে। কিন্তু পারিনি। এখন আমি বুঝতে পেরেছি, শূন্যতাটা পূরণ করার দরকার নেই। শূন্যতাটা নিজেই একটা পূর্ণতা, যেটা আমাকে একা বাঁচতে শিখিয়েছে। পর্ব ২৬১ — স্মৃতির আয়না মাঝে মাঝে আমি স্মৃতির আয়নার সামনে দাঁড়াই। সেখানে আমি তোমাকে দেখতে পাই, নিজেকে দেখতে পাই। কিন্তু আমাদের একসাথে দেখতে পাই না। আমরা দুজন আলাদা দাঁড়িয়ে থাকি। আয়নাটা আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা একসময় ছিলাম, কিন্তু এখন আর নেই। পর্ব ২৬২ — হারানো শহরের গল্প যে শহরে তুমি আর আমি একসাথে হেঁটেছিলাম, সেই শহরটা এখন আমার কাছে একটা হারানো শহর। রাস্তাগুলো একই আছে, ল্যাম্পপোস্টগুলোও আগের মতোই আলো দেয়, কিন্তু সেই আলোতে আমি আর তোমাকে দেখতে পাই না। শহরটা এখন আমার কাছে শুধু একটা স্মৃতির জাদুঘর। পর্ব ২৬৩ — নীরবতার ভাষা তুমি যখন কথা বলতে বন্ধ করে দিলে, আমি ভেবেছিলাম তুমি হয়তো অভিমান করেছো। কিন্তু পরে বুঝলাম, তোমার নীরবতা আসলে একটা ভাষা ছিল। যে ভাষায় তুমি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলে যে, তোমার জীবনে আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই। আমি সেই ভাষাটা বুঝতে একটু দেরি করে ফেলেছিলাম। পর্ব ২৬৪ — মিথ্যে হাসি আমি এখন অনেক ভালো মিথ্যে হাসতে শিখে গেছি। কেউ যখন জিজ্ঞেস করে, "কেমন আছো? ", আমি একটা সুন্দর হাসি দিয়ে বলি, "ভালো আছি। " এই হাসিটা এতোটাই নিখুঁত যে, কেউ বুঝতে পারে না এর পেছনে কতটা কষ্ট লুকিয়ে আছে। তুমি আমাকে এই নিখুঁত অভিনয়টা শিখিয়েছো। পর্ব ২৬৫ — শেষ বিকেল আমাদের একসাথে কাটানো শেষ বিকেলটার কথা আমার খুব মনে পড়ে। তুমি আমার দিকে তাকিয়ে একটা অদ্ভুত হাসি দিয়েছিলে। আমি বুঝতে পারিনি সেই হাসির অর্থ কী ছিল। হয়তো সেটা একটা বিদায় ছিল, হয়তো একটা অপরাধবোধ। যাই হোক, সেই বিকেলটা আমি আজও ভুলতে পারিনি। পর্ব ২৬৬ — একা থাকার অভ্যাস আমি এখন একা থাকতে শিখে গেছি। আগে একা থাকতে ভয় লাগতো, মনে হতো কেউ একজন পাশে থাকলে ভালো হতো। কিন্তু এখন একা থাকাটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ। কারণ এই একা থাকার সময় কেউ আমাকে ছেড়ে যাওয়ার ভয় দেখায় না, কেউ আমাকে অবহেলা করে না। পর্ব ২৬৭ — পুরোনো ঘড়ি আমার একটা পুরোনো ঘড়ি ছিল, যেটা তুমি আমাকে দিয়েছিলে। ঘড়িটা অনেকদিন আগেই নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু আমি সেটা ফেলে দিইনি। মাঝে মাঝে সেটা হাতে নিয়ে দেখি। কাঁটাগুলো থেমে আছে, ঠিক যেমন আমাদের সময়টা থেমে গিয়েছিল। আমি জানি ঘড়িটা আর চলবে না, কিন্তু স্মৃতি তো আর থামে না। পর্ব ২৬৮ — নিজের সাথে কথা আমি এখন নিজের সাথে কথা বলতে শিখে গেছি। আগে আমি শুধু তোমার সাথেই কথা বলতাম, নিজের কথা কখনো ভাবিনি। কিন্তু তুমি চলে যাওয়ার পর আমি বুঝতে পেরেছি, নিজের সাথে কথা বলাটা কতটা জরুরি। তাই আমি এখন নিজের সবচেয়ে ভালো শ্রোতা। পর্ব ২৬৯ — শেষ মেসেজ তোমার পাঠানো শেষ মেসেজটা আমি আজও ডিলিট করিনি। মেসেজটাতে লেখা ছিল, "ভালো থেকো। " আমি বুঝতে পারিনি তুমি আমাকে ভালো থাকতে বলছিলে নাকি নিজেকে মুক্ত করছিলে। যাই হোক, আমি সেই মেসেজটা রেখে দিয়েছি, একটা প্রমাণ হিসেবে যে তুমি একসময় ছিলে। পর্ব ২৭০ — পুরোনো ডায়েরি আমার একটা পুরোনো ডায়েরি আছে, যেখানে আমি আমাদের প্রতিদিনের কথা লিখে রাখতাম। তুমি চলে যাওয়ার পর আমি আর সেই ডায়েরিতে কিছু লিখিনি। মাঝে মাঝে ডায়েরিটা খুলি, পাতা উল্টাই। সেখানে তুমি আছো, আমি আছি, আমাদের অনেকগুলো সুন্দর দিন আছে। শুধু আমাদের বর্তমানটা নেই। পর্ব ২৭১ — অগোছালো ঘর তুমি যখন ছিলে, আমার ঘরটা খুব গোছানো থাকতো। তুমি সবকিছু গুছিয়ে রাখতে ভালোবাসতে। এখন আমার ঘরটা খুব অগোছালো। আমি কিছু গুছিয়ে রাখি না। কারণ আমি জানি, এই অগোছালো ঘরে তুমি আর কখনো ফিরে আসবে না। আর তুমি ছাড়া ঘর গুছিয়ে কী লাভ? পর্ব ২৭২ — হারানো বই আমি তোমাকে একটা বই পড়তে দিয়েছিলাম, যেটা আমার খুব প্রিয় ছিল। তুমি বইটা আর ফেরত দাওনি। আমি বইটার কথা কখনো বলিনি, কারণ আমি ভেবেছিলাম বইটার সাথে তুমিও হয়তো একদিন ফিরে আসবে। কিন্তু তুমি আসোনি, বইটাও আসেনি। শুধু আমার বুকশেলফে একটা খালি জায়গা রয়ে গেছে। পর্ব ২৭৩ — চেনা রেস্তোরাঁ আমাদের একটা প্রিয় রেস্তোরাঁ ছিল, যেখানে আমরা প্রায়ই যেতাম। এখন আমি সেই রেস্তোরাঁর পাশ দিয়ে হেঁটে যাই, কিন্তু কখনো ভেতরে ঢুকি না। কারণ আমি জানি, সেখানে গেলে আমি তোমার শূন্যতাটা আরও বেশি অনুভব করবো। রেস্তোরাঁটা এখন আমার কাছে একটা নিষিদ্ধ জায়গা। পর্ব ২৭৪ — অদেখা সিনেমা আমরা অনেকগুলো সিনেমা একসাথে দেখার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু সেগুলো আর দেখা হয়নি। এখন আমি একা একা সেই সিনেমাগুলো দেখি। কিন্তু সিনেমা দেখতে দেখতে আমার বারবার মনে হয়, তুমি থাকলে হয়তো এই দৃশ্যটা নিয়ে আমরা হাসতাম, ওই দৃশ্যটা নিয়ে তর্ক করতাম। পর্ব ২৭৫ — পুরনো গান রেডিওতে হঠাৎ আমাদের প্রিয় গানটা বেজে উঠলে আমি রেডিওটা বন্ধ করে দিই। কারণ গানটা শুনলে আমার তোমার কথা মনে পড়ে। আর তোমার কথা মনে পড়লে আমার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। আমি এখন আর পুরনো গান শুনি না, কারণ আমি পুরনো স্মৃতিগুলো জাগিয়ে তুলতে চাই না। পর্ব ২৭৬ — শীতের পোশাক শীত এলে আমি তোমার দেওয়া সোয়েটারটা পরি না। কারণ সোয়েটারটা পরলে আমার মনে হয় তুমি আমাকে জড়িয়ে আছো। আর এই মিথ্যে অনুভূতিটা আমাকে আরও বেশি কষ্ট দেয়। আমি এখন নিজের কেনা সোয়েটার পরি, যেটা আমাকে শুধু উষ্ণতা দেয়, কোনো স্মৃতি নয়। পর্ব ২৭৭ — অসম্পূর্ণ গল্প আমি একটা গল্প লিখতে শুরু করেছিলাম, যেটার প্রধান চরিত্র ছিলে তুমি। কিন্তু তুমি চলে যাওয়ার পর আমি গল্পটা আর শেষ করতে পারিনি। কারণ আমি জানি না গল্পের শেষটা কী হবে। তুমি আমার জীবনের একটা অসম্পূর্ণ গল্প, যেটার কোনো শেষ নেই। পর্ব ২৭৮ — হারানো চাবি তুমি আমার ঘরের একটা চাবি তোমার কাছে রেখেছিলে। তুমি চলে যাওয়ার সময় চাবিটা ফেরত দিয়ে যাওনি। আমি কখনো চাবিটা চাইনি, কারণ আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোনো একদিন তুমি সেই চাবি দিয়ে আমার ঘরের দরজা খুলবে। কিন্তু সেই দরজা আর কখনো খোলেনি। পর্ব ২৭৯ — পুরনো মেসেজ আমি মাঝে মাঝে তোমার পুরনো মেসেজগুলো পড়ি। সেখানে তুমি আমাকে অনেক ভালোবাসার কথা লিখেছিলে। আমি বুঝতে পারি না, সেই কথাগুলো কি সত্যি ছিল, নাকি শুধু কিছু শব্দ? যদি সত্যি হতো, তাহলে তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারতে না। পর্ব ২৮০ — অচেনা শহর তুমি চলে যাওয়ার পর এই শহরটা আমার কাছে অচেনা হয়ে গেছে। আমি রাস্তায় হাঁটি, কিন্তু কোনো কিছুতেই আমার মন বসে না। মনে হয় আমি একটা অচেনা শহরে পথ হারিয়ে ফেলেছি। তুমি ছিলে আমার এই শহরের একমাত্র ঠিকানা, যেটা এখন আর নেই। পর্ব ২৮১ — মিথ্যে আশা আমি এখনো মাঝে মাঝে একটা মিথ্যে আশা নিয়ে বেঁচে থাকি। আমি ভাবি, হয়তো তুমি একদিন ফিরে আসবে, হয়তো তুমি বুঝতে পারবে তোমার ভুল। কিন্তু আমি জানি, এটা শুধু একটা মিথ্যে আশা। তুমি আর কখনো ফিরে আসবে না। আর আমিও আস্তে আস্তে সেই সত্যিটা মেনে নিচ্ছি। পর্ব ২৮২ — হারানো হাসি তুমি আমার হাসিটা কেড়ে নিয়েছো। আমি এখন আর আগের মতো হাসতে পারি না। আমার হাসিটা এখন খুব যান্ত্রিক, খুব কৃত্রিম। তুমি ছিলে আমার হাসির কারণ। আর এখন তোমার অনুপস্থিতিটাই আমার সবচেয়ে বড় কষ্ট। পর্ব ২৮৩ — ভাঙা ফ্রেম আমার টেবিলের এক কোণে তোমার আর আমার একটা ছবি রাখা ছিল। ছবিটার ফ্রেমটা সেদিন হাত থেকে পড়ে ভেঙে গেছে। আমি কাঁচের টুকরোগুলো কুড়িয়ে ফেলে দিয়েছি, কিন্তু ছবিটা এখনো ওখানেই আছে। ফ্রেম ছাড়া ছবিটাকে এখন বড্ড অসহায় মনে হয়, ঠিক আমার মতো। পর্ব ২৮৪ — কাঁচের দেয়াল আমাদের মাঝে একটা কাঁচের দেয়াল তৈরি হয়েছিল। আমরা দুজন একে অপরকে দেখতে পেতাম, কিন্তু ছুঁতে পারতাম না। আমি অনেকবার সেই দেয়ালটা ভাঙার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু তুমি প্রতিবার সেটাকে আরও মোটা করে তুলেছিলে। শেষমেশ আমি হাত সরিয়ে নিয়েছিলাম। কারণ কাঁচের দেয়াল ভাঙতে গেলে নিজেই কেটে যায়। পর্ব ২৮৫ — ফেলে আসা মুহূর্ত কিছু মুহূর্ত আছে যেগুলো ফেলে আসা যায় না, সেগুলো সবসময় পিছু পিছু আসে। তোমার সাথে কাটানো কিছু মুহূর্ত আমার পিছু ছাড়ে না। বিশেষ করে সেই রাতটার কথা, যখন তুমি বলেছিলে আমাকে ছাড়া তোমার চলবে না। সেই মুহূর্তটা আমি বুকে চেপে রেখেছি, কারণ সেটাই ছিল তোমার সবচেয়ে সত্যি কথা। পর্ব ২৮৬ — অপেক্ষার রং অপেক্ষার একটা রং আছে। সেটা ধূসর। না সাদা, না কালো। শুধু একটা অনিশ্চিত ধূসর। আমি তোমার জন্য অনেকদিন সেই ধূসর রঙের মাঝে বসে ছিলাম। এখন আমি সেই ধূসর রং ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি। আমার জীবনে এখন অনেক রং আছে, শুধু তোমার অপেক্ষার ধূসরটা নেই। পর্ব ২৮৭ — একটা সাধারণ দিন তোমার সাথে একটা সাধারণ দিন কাটানো ছিল আমার সবচেয়ে বড় সুখ। কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান নয়, কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নয়। শুধু তুমি আর আমি, একটা সাধারণ দিন। সেই সাধারণ দিনগুলোর কথা এখন অনেক মনে পড়ে। কারণ সেই সাধারণতার মাঝেই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় সুখ। পর্ব ২৮৮ — না বলা কথার ভার আমার বুকে অনেক না-বলা কথা জমে আছে। কথাগুলো তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বলা হয়নি। এখন সেই কথাগুলো আমার বুকের ভেতর পাথরের মতো চেপে বসে আছে। মাঝে মাঝে মনে হয় কথাগুলো বলে দিলে হালকা লাগতো। কিন্তু তুমি এখন আর শোনার অবস্থানে নেই। পর্ব ২৮৯ — চেনা অচেনার খেলা তুমি এখন আমার কাছে একজন চেনা-অচেনা মানুষ। তোমার মুখটা চেনা, কিন্তু তোমার মনটা অচেনা। তোমার কণ্ঠস্বর চেনা, কিন্তু তোমার কথাগুলো অচেনা। এই চেনা-অচেনার খেলাটা আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। এখন আমি আর এই খেলায় অংশ নিতে চাই না। পর্ব ২৯০ — বিশ্বাসের ভাঙন বিশ্বাস একবার ভাঙলে আর জোড়া লাগে না। আমি তোমাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করেছিলাম। তুমি সেই বিশ্বাসটা ভেঙে দিয়েছো। এখন আমি আর কাউকে সেভাবে বিশ্বাস করতে পারি না। তোমার দেওয়া এই ক্ষতটা হয়তো কখনো পুরোপুরি সারবে না, কিন্তু আমি এই ক্ষত নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। পর্ব ২৯১ — তোমার ছবি তোমার একটা ছবি আমার ফোনে এখনো আছে। আমি মাঝে মাঝে সেটা দেখি। ছবিতে তুমি হাসছো, সেই পুরোনো হাসি। আমি ভাবি, এই হাসিটা কি সত্যিকারের ছিল নাকি অভিনয়? এখন আর বুঝতে পারি না। কারণ তুমি অভিনয়টা এতো ভালো করতে যে, আমি আসল আর নকলের পার্থক্য করতে পারতাম না। পর্ব ২৯২ — শেষ রাতের চাঁদ শেষ রাতে যখন ঘুম আসে না, আমি জানালার পাশে বসে চাঁদ দেখি। চাঁদটা একা একা আকাশে ভাসে, কোনো সঙ্গী নেই। আমার মনে হয় আমিও সেই চাঁদের মতো। একা, কিন্তু আলো দিচ্ছি। হয়তো আমার এই একাকীত্বটাও কারো জীবনে একটু আলো দেয়। পর্ব ২৯৩ — ক্লান্তির রং ক্লান্তিরও একটা রং আছে। সেটা হলুদ, বিবর্ণ হলুদ। তোমার সাথে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে আমি সেই বিবর্ণ হলুদ রঙে ডুবে গিয়েছিলাম। এখন আমি সেই রং থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমার জীবনে এখন সবুজ আছে, নীল আছে, লাল আছে। শুধু সেই বিবর্ণ হলুদটা নেই। পর্ব ২৯৪ — তোমার কথা বলার ধরন তুমি কথা বলার সময় একটু মাথা নিচু করতে। আমার সেই অভ্যাসটা খুব পছন্দ ছিল। এখন যখন কেউ সেভাবে মাথা নিচু করে কথা বলে, আমি একটু থমকে যাই। মনে হয় তুমি বুঝি কথা বলছো। কিন্তু চোখ তুলে দেখি, তুমি নও। একটা অচেনা মানুষ। পর্ব ২৯৫ — জমানো কথা আমার বুকে অনেক কথা জমে আছে, যেগুলো তোমাকে বলা হয়নি। কথাগুলো বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সময় পাইনি। এখন সেই কথাগুলো আমার বুকের ভেতর পাথরের মতো চেপে বসে আছে। মাঝে মাঝে মনে হয় কথাগুলো বলে দিলে হালকা লাগতো। কিন্তু তুমি এখন আর শোনার মানুষ নও। পর্ব ২৯৬ — ভোরের আলো ভোরের আলোটা আমার খুব প্রিয়। সেই আলোতে সব কিছু নতুন মনে হয়। তোমাকে হারানোর পর আমি অনেকদিন ভোরের আলো দেখিনি। কিন্তু এখন আবার দেখি। সেই আলোতে আমি নিজেকে নতুন করে দেখতে পাই। তোমাকে ছাড়া, কিন্তু নিজেকে নিয়ে। পর্ব ২৯৭ — কষ্টের রূপান্তর কষ্ট একটা অদ্ভুত জিনিস। এটা মানুষকে ভাঙে, কিন্তু আবার গড়েও তোলে। তুমি আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছো। সেই কষ্টগুলো আমাকে ভেঙেছিল, কিন্তু এখন সেই কষ্টগুলোই আমাকে শক্তিশালী করে তুলেছে। আমি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত, অনেক বেশি সচেতন। পর্ব ২৯৮ — তোমার অপেক্ষায় নয় আমি এখন আর তোমার অপেক্ষায় নেই। আগে প্রতিদিন ভাবতাম, হয়তো তুমি ফিরে আসবে। হয়তো তুমি বুঝতে পারবে। কিন্তু এখন আমি জানি, তুমি আর আসবে না। আর আমিও আর অপেক্ষা করি না। আমি এখন নিজের জন্য বাঁচি। পর্ব ২৯৯ — নতুন বন্ধুত্ব তোমাকে হারানোর পর আমি নতুন কিছু মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি। তারা আমাকে বোঝে, আমার কথা শোনে। তোমার মতো নয়, কিন্তু তারা আছে। আমি বুঝতে পেরেছি, পৃথিবীতে ভালো মানুষের অভাব নেই। শুধু সঠিক মানুষটাকে খুঁজে নিতে হয়। পর্ব ৩০০ — নিজেকে চেনা তোমাকে হারানোর পর আমি নিজেকে নতুন করে চিনতে শুরু করেছি। আমি জানতে পেরেছি আমি কী চাই, কী পছন্দ করি, কোথায় যেতে চাই। তোমার সাথে থাকতে আমি শুধু তোমার পছন্দ-অপছন্দের কথা ভাবতাম। এখন আমি নিজের কথা ভাবি। এই নিজেকে চেনার আনন্দটা অন্যরকম। মাহবুব সরদার সবুজ পর্ব ২০১ — অসম্পূর্ণ কফি তুমি কফি খেতে ভালোবাসতে, আর আমি চা। কিন্তু তোমার সাথে থাকতে থাকতে আমিও কফিতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এখন তুমি নেই, কিন্তু কফির অভ্যাসটা রয়ে গেছে। মাঝে মাঝে কফি বানাই, কিন্তু পুরোটা শেষ করতে পারি না। মনে হয় কফির কাপে তোমার একটা ভাগ রয়ে গেছে, যেটা কেউ ছুঁতে পারবে না। পর্ব ২০২ — ফেলে আসা ছাতা বৃষ্টির দিনে আমরা একটাই ছাতা ব্যবহার করতাম। তুমি সবসময় ছাতার মাঝখানে থাকতে, আর আমি একপাশে ভিজে যেতাম। কিন্তু সেই ভেজার মাঝেও একটা আনন্দ ছিল। তুমি যাওয়ার সময় ছাতাটা নিয়ে যাওনি। এখন বৃষ্টি এলে আমি ছাতাটা খুলি না, কারণ একা ছাতার নিচে দাঁড়ালে আমার আরও বেশি শীত লাগে। পর্ব ২০৩ — চেনা সুগন্ধি তুমি একটা বিশেষ সুগন্ধি ব্যবহার করতে, যেটার গন্ধ পেলে আমি বুঝতে পারতাম তুমি কাছাকাছি আছো। এখন রাস্তায় চলতে চলতে হঠাৎ সেই সুগন্ধির গন্ধ পেলে আমি থমকে দাঁড়াই। এদিক ওদিক তাকাই, হয়তো তুমি আছো। কিন্তু তুমি থাকো না। শুধু গন্ধটা থাকে, একটা মিথ্যে আশার মতো। পর্ব ২০৪ — ভুল নম্বরের কল মাঝে মাঝে আমার ফোনে অচেনা নম্বর থেকে কল আসে। আমি ফোন ধরি, কেউ কথা বলে না। আমি ভাবি, হয়তো তুমি। হয়তো তুমি আমার গলার আওয়াজ শুনতে চাও। কিন্তু আমি জানি, এটা শুধু আমার একটা মিথ্যে কল্পনা। তুমি আমাকে ফোন করার মানুষ নও। পর্ব ২০৫ — পুরনো ডায়েরির পাতা আমার একটা পুরনো ডায়েরি আছে, যেখানে আমি আমাদের প্রতিদিনের কথা লিখে রাখতাম। তুমি চলে যাওয়ার পর আমি আর সেই ডায়েরিতে কিছু লিখিনি। মাঝে মাঝে ডায়েরিটা খুলি, পাতা উল্টাই। সেখানে তুমি আছো, আমি আছি, আমাদের অনেকগুলো সুন্দর দিন আছে। শুধু আমাদের বর্তমানটা নেই। পর্ব ২০৬ — অগোছালো ঘর তুমি যখন ছিলে, আমার ঘরটা খুব গোছানো থাকতো। তুমি সবকিছু গুছিয়ে রাখতে ভালোবাসতে। এখন আমার ঘরটা খুব অগোছালো। আমি কিছু গুছিয়ে রাখি না। কারণ আমি জানি, এই অগোছালো ঘরে তুমি আর কখনো ফিরে আসবে না। আর তুমি ছাড়া ঘর গুছিয়ে কী লাভ? পর্ব ২০৭ — হারানো বই আমি তোমাকে একটা বই পড়তে দিয়েছিলাম, যেটা আমার খুব প্রিয় ছিল। তুমি বইটা আর ফেরত দাওনি। আমি বইটার কথা কখনো বলিনি, কারণ আমি ভেবেছিলাম বইটার সাথে তুমিও হয়তো একদিন ফিরে আসবে। কিন্তু তুমি আসোনি, বইটাও আসেনি। শুধু আমার বুকশেলফে একটা খালি জায়গা রয়ে গেছে। পর্ব ২০৮ — চেনা রেস্তোরাঁ আমাদের একটা প্রিয় রেস্তোরাঁ ছিল, যেখানে আমরা প্রায়ই যেতাম। এখন আমি সেই রেস্তোরাঁর পাশ দিয়ে হেঁটে যাই, কিন্তু কখনো ভেতরে ঢুকি না। কারণ আমি জানি, সেখানে গেলে আমি তোমার শূন্যতাটা আরও বেশি অনুভব করবো। রেস্তোরাঁটা এখন আমার কাছে একটা নিষিদ্ধ জায়গা। পর্ব ২০৯ — অদেখা সিনেমা আমরা অনেকগুলো সিনেমা একসাথে দেখার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু সেগুলো আর দেখা হয়নি। এখন আমি একা একা সেই সিনেমাগুলো দেখি। কিন্তু সিনেমা দেখতে দেখতে আমার বারবার মনে হয়, তুমি থাকলে হয়তো এই দৃশ্যটা নিয়ে আমরা হাসতাম, ওই দৃশ্যটা নিয়ে তর্ক করতাম। পর্ব ২১০ — পুরনো গান রেডিওতে হঠাৎ আমাদের প্রিয় গানটা বেজে উঠলে আমি রেডিওটা বন্ধ করে দিই। কারণ গানটা শুনলে আমার তোমার কথা মনে পড়ে। আর তোমার কথা মনে পড়লে আমার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। আমি এখন আর পুরনো গান শুনি না, কারণ আমি পুরনো স্মৃতিগুলো জাগিয়ে তুলতে চাই না। পর্ব ২১১ — শীতের পোশাক শীত এলে আমি তোমার দেওয়া সোয়েটারটা পরি না। কারণ সোয়েটারটা পরলে আমার মনে হয় তুমি আমাকে জড়িয়ে আছো। আর এই মিথ্যে অনুভূতিটা আমাকে আরও বেশি কষ্ট দেয়। আমি এখন নিজের কেনা সোয়েটার পরি, যেটা আমাকে শুধু উষ্ণতা দেয়, কোনো স্মৃতি নয়। পর্ব ২১২ — অসম্পূর্ণ গল্প আমি একটা গল্প লিখতে শুরু করেছিলাম, যেটার প্রধান চরিত্র ছিলে তুমি। কিন্তু তুমি চলে যাওয়ার পর আমি গল্পটা আর শেষ করতে পারিনি। কারণ আমি জানি না গল্পের শেষটা কী হবে। তুমি আমার জীবনের একটা অসম্পূর্ণ গল্প, যেটার কোনো শেষ নেই। পর্ব ২১৩ — হারানো চাবি তুমি আমার ঘরের একটা চাবি তোমার কাছে রেখেছিলে। তুমি চলে যাওয়ার সময় চাবিটা ফেরত দিয়ে যাওনি। আমি কখনো চাবিটা চাইনি, কারণ আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোনো একদিন তুমি সেই চাবি দিয়ে আমার ঘরের দরজা খুলবে। কিন্তু সেই দরজা আর কখনো খোলেনি। পর্ব ২১৪ — পুরনো মেসেজ আমি মাঝে মাঝে তোমার পুরনো মেসেজগুলো পড়ি। সেখানে তুমি আমাকে অনেক ভালোবাসার কথা লিখেছিলে। আমি বুঝতে পারি না, সেই কথাগুলো কি সত্যি ছিল, নাকি শুধু কিছু শব্দ? যদি সত্যি হতো, তাহলে তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারতে না। পর্ব ২১৫ — অচেনা শহর তুমি চলে যাওয়ার পর এই শহরটা আমার কাছে অচেনা হয়ে গেছে। আমি রাস্তায় হাঁটি, কিন্তু কোনো কিছুতেই আমার মন বসে না। মনে হয় আমি একটা অচেনা শহরে পথ হারিয়ে ফেলেছি। তুমি ছিলে আমার এই শহরের একমাত্র ঠিকানা, যেটা এখন আর নেই। পর্ব ২১৬ — মিথ্যে আশা আমি এখনো মাঝে মাঝে একটা মিথ্যে আশা নিয়ে বেঁচে থাকি। আমি ভাবি, হয়তো তুমি একদিন ফিরে আসবে, হয়তো তুমি বুঝতে পারবে তোমার ভুল। কিন্তু আমি জানি, এটা শুধু একটা মিথ্যে আশা। তুমি আর কখনো ফিরে আসবে না। আর আমিও আস্তে আস্তে সেই সত্যিটা মেনে নিচ্ছি। পর্ব ২১৭ — হারানো হাসি তুমি আমার হাসিটা কেড়ে নিয়েছো। আমি এখন আর আগের মতো হাসতে পারি না। আমার হাসিটা এখন খুব যান্ত্রিক, খুব কৃত্রিম। তুমি ছিলে আমার হাসির কারণ। আর এখন তোমার অনুপস্থিতিটাই আমার সবচেয়ে বড় কষ্ট। পর্ব ২১৮ — ভাঙা ফ্রেম আমার টেবিলের এক কোণে তোমার আর আমার একটা ছবি রাখা ছিল। ছবিটার ফ্রেমটা সেদিন হাত থেকে পড়ে ভেঙে গেছে। আমি কাঁচের টুকরোগুলো কুড়িয়ে ফেলে দিয়েছি, কিন্তু ছবিটা এখনো ওখানেই আছে। ফ্রেম ছাড়া ছবিটাকে এখন বড্ড অসহায় মনে হয়, ঠিক আমার মতো। পর্ব ২১৯ — কাঁচের দেয়াল আমাদের মাঝে একটা কাঁচের দেয়াল তৈরি হয়েছিল। আমরা দুজন একে অপরকে দেখতে পেতাম, কিন্তু ছুঁতে পারতাম না। আমি অনেকবার সেই দেয়ালটা ভাঙার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু তুমি প্রতিবার সেটাকে আরও মোটা করে তুলেছিলে। শেষমেশ আমি হাত সরিয়ে নিয়েছিলাম। কারণ কাঁচের দেয়াল ভাঙতে গেলে নিজেই কেটে যায়। পর্ব ২২০ — ফেলে আসা মুহূর্ত কিছু মুহূর্ত আছে যেগুলো ফেলে আসা যায় না, সেগুলো সবসময় পিছু পিছু আসে। তোমার সাথে কাটানো কিছু মুহূর্ত আমার পিছু ছাড়ে না। বিশেষ করে সেই রাতটার কথা, যখন তুমি বলেছিলে আমাকে ছাড়া তোমার চলবে না। সেই মুহূর্তটা আমি বুকে চেপে রেখেছি, কারণ সেটাই ছিল তোমার সবচেয়ে সত্যি কথা। পর্ব ২২১ — অপেক্ষার রং অপেক্ষার একটা রং আছে। সেটা ধূসর। না সাদা, না কালো। শুধু একটা অনিশ্চিত ধূসর। আমি তোমার জন্য অনেকদিন সেই ধূসর রঙের মাঝে বসে ছিলাম। এখন আমি সেই ধূসর রং ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি। আমার জীবনে এখন অনেক রং আছে, শুধু তোমার অপেক্ষার ধূসরটা নেই। পর্ব ২২২ — একটা সাধারণ দিন তোমার সাথে একটা সাধারণ দিন কাটানো ছিল আমার সবচেয়ে বড় সুখ। কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান নয়, কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নয়। শুধু তুমি আর আমি, একটা সাধারণ দিন। সেই সাধারণ দিনগুলোর কথা এখন অনেক মনে পড়ে। কারণ সেই সাধারণতার মাঝেই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় সুখ। পর্ব ২২৩ — না বলা কথার ভার আমার বুকে অনেক না-বলা কথা জমে আছে। কথাগুলো তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বলা হয়নি। এখন সেই কথাগুলো আমার বুকের ভেতর পাথরের মতো চেপে বসে আছে। মাঝে মাঝে মনে হয় কথাগুলো বলে দিলে হালকা লাগতো। কিন্তু তুমি এখন আর শোনার অবস্থানে নেই। পর্ব ২২৪ — চেনা অচেনার খেলা তুমি এখন আমার কাছে একজন চেনা-অচেনা মানুষ। তোমার মুখটা চেনা, কিন্তু তোমার মনটা অচেনা। তোমার কণ্ঠস্বর চেনা, কিন্তু তোমার কথাগুলো অচেনা। এই চেনা-অচেনার খেলাটা আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। এখন আমি আর এই খেলায় অংশ নিতে চাই না। পর্ব ২২৫ — বিশ্বাসের ভাঙন বিশ্বাস একবার ভাঙলে আর জোড়া লাগে না। আমি তোমাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করেছিলাম। তুমি সেই বিশ্বাসটা ভেঙে দিয়েছো। এখন আমি আর কাউকে সেভাবে বিশ্বাস করতে পারি না। তোমার দেওয়া এই ক্ষতটা হয়তো কখনো পুরোপুরি সারবে না, কিন্তু আমি এই ক্ষত নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। পর্ব ২২৬ — তোমার ছবি তোমার একটা ছবি আমার ফোনে এখনো আছে। আমি মাঝে মাঝে সেটা দেখি। ছবিতে তুমি হাসছো, সেই পুরোনো হাসি। আমি ভাবি, এই হাসিটা কি সত্যিকারের ছিল নাকি অভিনয়? এখন আর বুঝতে পারি না। কারণ তুমি অভিনয়টা এতো ভালো করতে যে, আমি আসল আর নকলের পার্থক্য করতে পারতাম না। পর্ব ২২৭ — শেষ রাতের চাঁদ শেষ রাতে যখন ঘুম আসে না, আমি জানালার পাশে বসে চাঁদ দেখি। চাঁদটা একা একা আকাশে ভাসে, কোনো সঙ্গী নেই। আমার মনে হয় আমিও সেই চাঁদের মতো। একা, কিন্তু আলো দিচ্ছি। হয়তো আমার এই একাকীত্বটাও কারো জীবনে একটু আলো দেয়। পর্ব ২২৮ — ক্লান্তির রং ক্লান্তিরও একটা রং আছে। সেটা হলুদ, বিবর্ণ হলুদ। তোমার সাথে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে গিয়ে আমি সেই বিবর্ণ হলুদ রঙে ডুবে গিয়েছিলাম। এখন আমি সেই রং থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমার জীবনে এখন সবুজ আছে, নীল আছে, লাল আছে। শুধু সেই বিবর্ণ হলুদটা নেই। পর্ব ২২৯ — তোমার কথা বলার ধরন তুমি কথা বলার সময় একটু মাথা নিচু করতে। আমার সেই অভ্যাসটা খুব পছন্দ ছিল। এখন যখন কেউ সেভাবে মাথা নিচু করে কথা বলে, আমি একটু থমকে যাই। মনে হয় তুমি বুঝি কথা বলছো। কিন্তু চোখ তুলে দেখি, তুমি নও। একটা অচেনা মানুষ। পর্ব ২৩০ — জমানো কথা আমার বুকে অনেক কথা জমে আছে, যেগুলো তোমাকে বলা হয়নি। কথাগুলো বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সময় পাইনি। এখন সেই কথাগুলো আমার বুকের ভেতর পাথরের মতো চেপে বসে আছে। মাঝে মাঝে মনে হয় কথাগুলো বলে দিলে হালকা লাগতো। কিন্তু তুমি এখন আর শোনার মানুষ নও। পর্ব ২৩১ — ভোরের আলো ভোরের আলোটা আমার খুব প্রিয়। সেই আলোতে সব কিছু নতুন মনে হয়। তোমাকে হারানোর পর আমি অনেকদিন ভোরের আলো দেখিনি। কিন্তু এখন আবার দেখি। সেই আলোতে আমি নিজেকে নতুন করে দেখতে পাই। তোমাকে ছাড়া, কিন্তু নিজেকে নিয়ে। পর্ব ২৩২ — কষ্টের রূপান্তর কষ্ট একটা অদ্ভুত জিনিস। এটা মানুষকে ভাঙে, কিন্তু আবার গড়েও তোলে। তুমি আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছো। সেই কষ্টগুলো আমাকে ভেঙেছিল, কিন্তু এখন সেই কষ্টগুলোই আমাকে শক্তিশালী করে তুলেছে। আমি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত, অনেক বেশি সচেতন। পর্ব ২৩৩ — তোমার অপেক্ষায় নয় আমি এখন আর তোমার অপেক্ষায় নেই। আগে প্রতিদিন ভাবতাম, হয়তো তুমি ফিরে আসবে। হয়তো তুমি বুঝতে পারবে। কিন্তু এখন আমি জানি, তুমি আর আসবে না। আর আমিও আর অপেক্ষা করি না। আমি এখন নিজের জন্য বাঁচি। পর্ব ২৩৪ — নতুন বন্ধুত্ব তোমাকে হারানোর পর আমি নতুন কিছু মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি। তারা আমাকে বোঝে, আমার কথা শোনে। তোমার মতো নয়, কিন্তু তারা আছে। আমি বুঝতে পেরেছি, পৃথিবীতে ভালো মানুষের অভাব নেই। শুধু সঠিক মানুষটাকে খুঁজে নিতে হয়। পর্ব ২৩৫ — নিজেকে চেনা তোমাকে হারানোর পর আমি নিজেকে নতুন করে চিনতে শুরু করেছি। আমি জানতে পেরেছি আমি কী চাই, কী পছন্দ করি, কোথায় যেতে চাই। তোমার সাথে থাকতে আমি শুধু তোমার পছন্দ-অপছন্দের কথা ভাবতাম। এখন আমি নিজের কথা ভাবি। এই নিজেকে চেনার আনন্দটা অন্যরকম। পর্ব ২৩৬ — শেষ অধ্যায় তুমি আমার জীবনের একটা অধ্যায় ছিলে। সেই অধ্যায়টা শেষ হয়েছে। কিন্তু বইটা শেষ হয়নি। আমি এখনো লিখছি, নতুন অধ্যায়, নতুন মানুষ, নতুন অনুভূতি। তোমার অধ্যায়টা আমার জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, কিন্তু সেটাই শেষ কথা নয়। পর্ব ২৩৭ — আলোর দিকে আমি এখন আলোর দিকে হাঁটছি। তোমার সাথে থাকতে আমি অনেকটা অন্ধকারে ছিলাম। এখন সেই অন্ধকার কেটে গেছে। আমার সামনে অনেক আলো আছে। আমি সেই আলোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, একা, কিন্তু সাহসের সাথে। পর্ব ২৩৮ — শেষ বিদায় তোমাকে শেষ বিদায় জানানোর সময় আমার চোখে জল ছিল। কিন্তু মনে কোনো অনুশোচনা ছিল না। কারণ আমি জানতাম, এই বিদায়টা আমার জন্য ভালো। তুমি আমার জীবনে এসেছিলে, অনেক কিছু শিখিয়েছিলে, আর এখন চলে যাচ্ছো। এটাই জীবনের নিয়ম। পর্ব ২৩৯ — নতুন শুরু আমি একটা নতুন শুরু করছি। তোমাকে ছাড়া, কিন্তু তোমার শেখানো পাঠগুলো নিয়ে। আমি জানি এই পথটা কঠিন, কিন্তু আমি জানি আমি পারবো। কারণ আমি আগেও কঠিন পথ পার করেছি। আর তুমিই আমাকে সেই শক্তিটা দিয়ে গেছো। পর্ব ২৪০ — তোমার কথা বলার ধরন তুমি কথা বলার সময় একটু থেমে থেমে বলতে, যেন প্রতিটা শব্দ মেপে বলছো। আমার সেই অভ্যাসটা অনেক পছন্দ ছিল। মনে হতো তুমি আমার সাথে কথা বলাটাকে গুরুত্ব দিচ্ছো। কিন্তু পরে বুঝলাম, তুমি আসলে কথা মেপে বলতে কারণ তুমি কোনো কথা দিতে চাইতে না। পর্ব ২৪১ — রাতের শহর রাতের শহরটা আমার কাছে অনেক প্রিয়। সেই সময় শহরটা একটু শান্ত হয়, একটু নিজের মতো হয়। আমি রাতে একা হাঁটি, শহরের আলোগুলো দেখি। মনে হয় প্রতিটা আলোর পেছনে একটা গল্প আছে। আমারও একটা গল্প আছে, তোমাকে নিয়ে। কিন্তু সেই গল্পটা এখন শুধু আমার। পর্ব ২৪২ — অর্ধেক স্বপ্ন আমি প্রায়ই একটা স্বপ্ন দেখি, যেখানে তুমি আর আমি একসাথে আছি। কিন্তু স্বপ্নটা কখনো পুরো হয় না, মাঝপথে ঘুম ভেঙে যায়। আমি চোখ মেলে দেখি, পাশে কেউ নেই। শুধু আমি আর আমার অর্ধেক স্বপ্ন। এই অর্ধেক স্বপ্নটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় সঙ্গী। পর্ব ২৪৩ — তোমার পছন্দের রং তুমি নীল রং পছন্দ করতে। আমি এখন নীল রং এড়িয়ে চলি। কারণ নীল দেখলে আমার তোমার কথা মনে পড়ে। আমি জানি এটা বোকামি, কিন্তু কিছু কিছু বোকামি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। নীল রং না দেখলে অন্তত তোমার কথা একটু কম মনে পড়ে। পর্ব ২৪৪ — ভুলের হিসাব আমি অনেকবার ভেবেছি, আমাদের সম্পর্কে কার ভুল বেশি ছিল। তোমার নাকি আমার। কিন্তু এখন আর সেই হিসাব করি না। কারণ ভুলের হিসাব করলে শুধু কষ্টই বাড়ে। আমি এখন শুধু এটুকু জানি, আমরা দুজনেই ভুল করেছিলাম। আর সেই ভুলের মাশুল আমরা দুজনেই দিয়েছি। পর্ব ২৪৫ — তোমার হাসির শব্দ তোমার হাসির একটা আলাদা শব্দ ছিল। সেই শব্দটা শুনলে আমার মনটা ভালো হয়ে যেতো। এখন আমি অনেক হাসির শব্দ শুনি, কিন্তু তোমার হাসির সেই শব্দটা আর শুনতে পাই না। মাঝে মাঝে মনে হয়, সেই শব্দটা আমার কানে এখনো বাজছে। কিন্তু এটা শুধু আমার মনের ভুল। পর্ব ২৪৬ — একা সন্ধ্যা সন্ধ্যার সময়টা আমার সবচেয়ে কঠিন। কারণ সেই সময় আমার তোমার কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। আমরা সন্ধ্যায় অনেকক্ষণ কথা বলতাম, হাঁটতাম। এখন সন্ধ্যা হলে আমি একা বসে থাকি। কিন্তু আমি এই একাকীত্বকে ভয় পাই না। কারণ একাকীত্ব আমাকে নিজের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। পর্ব ২৪৭ — পরিচিত অপরিচিত তুমি এখন আমার পরিচিত অপরিচিত। তোমাকে চিনি, কিন্তু তোমার সাথে আর কোনো সম্পর্ক নেই। রাস্তায় দেখলে হয়তো হাসি দিই, হয়তো দিই না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটা অদ্ভুত অনুভূতি হয়। যে মানুষটাকে একসময় সবচেয়ে কাছের মনে হতো, সে এখন একজন অপরিচিত। পর্ব ২৪৮ — শেষ রাতের ভাবনা শেষ রাতে যখন সব শান্ত হয়ে যায়, তখন আমার মাথায় অনেক ভাবনা আসে। তোমার কথা, আমাদের কথা, যা হয়েছে তার কথা। আমি সেই ভাবনাগুলোকে আর তাড়াই না। ভাবনাগুলো আসুক, থাকুক, তারপর চলে যাক। কারণ ভাবনাগুলো আমার, এগুলো আমার জীবনের একটা অংশ। পর্ব ২৪৯ — মুক্তির স্বাদ তোমার থেকে দূরে সরে আসার পর আমি একটা অদ্ভুত মুক্তির স্বাদ পেয়েছি। আমি এখন নিজের মতো করে বাঁচতে পারি। নিজের পছন্দে চলতে পারি। কেউ আমাকে বলে না কী করতে হবে, কী করা যাবে না। এই মুক্তিটা আমার কাছে তোমার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। পর্ব ২৫০ — নতুন পৃষ্ঠা আমি আজ একটা নতুন পৃষ্ঠা খুলছি। পুরনো পৃষ্ঠাগুলো বন্ধ করে দিচ্ছি না, কারণ সেগুলো আমার জীবনের অংশ। কিন্তু নতুন পৃষ্ঠায় আমি নতুন কিছু লিখতে চাই। তোমাকে ছাড়া, কিন্তু তোমার শেখানো পাঠগুলো নিয়ে। এই নতুন পৃষ্ঠাটাই আমার সবচেয়ে বড় সাহস। মাহবুব সরদার সবুজ ২ ৩ তোমার চারপাশ যখন কথা বলে, তখন তুমি হয়তো নীরব থাকো। মৌনতা নয়, বরং নিজের ভেতরের কথাগুলোকে শোনার চেষ্টা। নীরবতা তোমাকে এক ধরণের শক্তি দেয়, যা তোমার মনকে একত্রিত করে। তুমি নিজের মধ্যে ডুবে যাও, তখন তোমার সবচেয়ে গোপন অনুভূতিগুলো মাথা তুলে দাঁড়ায়। এখন তুমি বুঝবে, নীরবতা মানে আত্মার ভাষা, যেখানে কোনো কথাের দরকার হয় না। তুমি যখন নীরব হয়ে থাকো, তখন তুমি নিজের ভাবনাগুলোকে নিয়ে কাজ করো, নিজের ভুল ধরো, নিজের ভালোবাসার কথা বুকে নিয়ে হাঁটো। এই নীরবতায় তুমি নিজের সঙ্গে কথা বলো, এবং নিজের মত নিজের সঙ্গী হও। তাই নীরবতা কখনো অমান্য করো না, কারণ এতে লুকানো থাকে অন্তরের অনেক কিছু। •

লেখক:

সব লেখা পড়ুন | হোম পেজে ফিরুন